আজ আমজাদ হোসেনের চলে যাওয়ার দিন

বিনোদন

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম গুণী নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৪ ডিসেম্বর। ২০১৮ সালের এই দিনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শিল্পের প্রায় প্রতিটি স্তরেই দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি ছিলেন অভিনেতা, গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার। 

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুরে একটি শোক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। আমজাদ হোসেন চর্চাকেন্দ্র, জামালপুরের উদীচী, খেলাঘরসহ ৭৪টি সংগঠনের অংশগ্রহণে এ শোক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে আমজাদ হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জামালপুরের সর্বস্তরের মানুষ। সারা দিনব্যাপী কোরআনখানি, বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। 

আমজাদ হোসেন ১৯৬১ সালে ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’ (১৯৬৭)। তাঁর পরিচালনায় জনপ্রিয়তা পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি। 

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে প্রায় ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর ৭৬ বছর বয়সে মারা যান বরেণ্য এই চলচ্চিত্রকার। ২০ ডিসেম্বর তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায় এবং জামালপুরের পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য আমজাদ হোসেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের জন্য ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার-এ ভূষিত করে। এ ছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশুসাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *