বিজয় দিবসে প্যারেড ময়দানে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ

বাংলাদেশ

বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তিতে জাতীয় প্যারেড ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। অভিবাদন মঞ্চ থেকে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ সময় প্যারেড ময়দানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে শুরু হয় বিজয় দিবস উদ্‌যাপনের এই আয়োজন। ঘোড়া সুসজ্জিত মিলিটারি পুলিশের মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে প্যারেড ময়দানে আসেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।
 
এর আগে সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারেড ময়দানে উপস্থিত হলে তাঁকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানেরা। প্রধানমন্ত্রীর জন্য মিলিটারি পুলিশের শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে ছিল কাতার সশস্ত্র বাহিনীর উপহারের আরবীয় ঘোড়া।

আজকের পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে অভিবাদন মঞ্চে যান রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্যালারিতে তাঁর আসন নেন। এ সময় মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও নাতনি সামা হোসাইনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্যারেড পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি পুনরায় অভিবাদন মঞ্চে অবস্থান নেন এবং মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের সালাম নেন।

বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে প্যারেড ময়দান সাজানো হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধের মাঝে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল একটি প্রতিকৃতি দিয়ে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাড়াও জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবিও ছিল। অভিবাদন মঞ্চ আর গ্যালারির সজ্জায় ছিল পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল আর কর্ণফুলী টানেলের প্রতীকী উপস্থাপন।

শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি প্রদর্শনের পর সুসজ্জিত বাহনে মুক্তিযোদ্ধা কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানানো হয় কুচকাওয়াজে।

প্যারেড ময়দানে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের পাশাপাশি আকাশ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সালাম দেওয়া হয়। আকাশ থেকে ফ্রিফল জাম্প দিয়ে পতাকা নিয়ে প্যারেড ময়দানে অবতরণ করেন প্যারা কমান্ডোরা। আর্মি অ্যাভিয়েশন, নেভাল অ্যাভিয়েশন ও র‍্যাব ফোর্সেসের ফ্লাইপাই, দুঃসাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প কুচকাওয়াজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের মার্চপাস্টের পর যান্ত্রিক বহরে সুসজ্জিত সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সমরাস্ত্রসমূহ প্রদর্শন করা হয়।

যান্ত্রিক বহরের প্রদর্শনীর পরপরই শুরু হয় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে। বিমানবাহিনীর ফ্লাইপাস্টের নেতৃত্ব দেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার।

কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর সর্বমোট ২৩টি কন্টিনজেন্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে।

মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২২ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বাংলাদেশ জেল এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এই কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে।

বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৯ পদাতিক ডিভিশনের মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক এবং প্যারেড উপ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন কমান্ডার, ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেড, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. খালেদ কামাল।

কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কমান্ডার, ৯ আর্টিলারি ব্রিগেড, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌফিক হামিদ এবং জাতিসংঘ কন্টিনজেন্টের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কমান্ডার, ৮১ পদাতিক ব্রিগেড, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ ব ম আব্দুল বাতিন ইমানী।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের গ্যালারিতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যগণ, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বৈদেশিক কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ‍উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে (ভোর ৬টা ৩ মিনিট) তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। ঢাকা পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় (তেজগাঁও) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের ব্যবস্থাপনায় একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৬টি গান ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *