কাতার বিশ্বকাপ: দুই দেশের সমর্থকদের সংঘর্ষের পর ফ্রান্স-মরক্কোর ভিসা উত্তেজনা নিরসন

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংকটপূর্ণ সম্পর্কের অবশেষে অবসান হতে যাচ্ছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার বলেছেন, তারা মরক্কোর নাগরিকদের ওপর থেকে ভিসা বিধিনিষেধ তুলে নেবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোরিতার সঙ্গে আলোচনার পর ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা বলেছেন, ‘আমরা মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।’ আগামী বছরের শুরুর দিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মরক্কো সফর করবেন বলেও এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশ ঠেকাতে জনমতের চাপের মুখে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স বলেছিল, তারা আলজেরিয়া, মরক্কো ও তিউনিসিয়ার নাগরিকদের ভিসা দেওয়া কমিয়ে দেবে। কারণ আফ্রিকার দেশগুলো অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত নিতে চায় না।

এরপরই মূলত ফ্রান্স-মরক্কো সম্পর্ক শিথিল হয়ে পড়ে। ফ্রান্সের পদক্ষেপটি মরক্কোয় ব্যাপক জনঅসন্তোষের জন্ম দিয়েছিল এবং মরক্কো এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করেছিল।

গত বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) কাতারে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায় মরক্কো। এরপর মরক্কোর সমর্থকেরা ফরাসি সমর্থকদের বিজয় র‍্যালিতে সহিংসতা চালায়। ফরাসি সমর্থকদের আনন্দ র‍্যালিতে মরক্কোর সমর্থকেরা পাথর নিক্ষেপ ও রাস্তায় অগ্নিসংযোগও করেন।

এই সহিংসতার পর ওই রাতেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও মরক্কোর রাজা মোহাম্মদ ষষ্ঠ টেলিফোনে কথা বলেন। দুই নেতা নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। এরপরই ভিসা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা জানানো হলো ফ্রান্সের পক্ষ থেকে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা বলেছেন, ‘দুটি দেশ ইতিমধ্যেই পূর্ণ কূটনৈতিক সহযোগিতায় ফিরে এসেছে।’

এ ছাড়া মরক্কোর প্রতিবেশী দেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং ভিসা বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা করতে আগামী শুক্রবার ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন আলজেরিয়া সফরে যাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ভিসা বিধিনিষেধ শিথিল করার বিনিময়ে মরক্কোর কাছ থেকে ফ্রান্স কিছু পেয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোরিতা বলেছেন, বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ফ্রান্সই নিয়েছে। এর আগে বিধিনিষেধ আরোপের সময়ও তারা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *