ভুবন সোম

আড্ডা

এক সপ্তাহের জন্য পুনে যাওয়ার কথা ছিল মৃণাল সেনের। পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের একটি ওয়ার্কশপে যোগ দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন ছবির বিষয়ে আলোচনা হবে সেখানে, সেই প্রস্তুতি নিয়েই তিনি চলেছেন।

সকালের ফ্লাইটে কলকাতা থেকে মুম্বাই এলেন মৃণাল সেন। দীর্ঘকালের বন্ধু অরুণ কাউলের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ছিল। ডেকান কুইনে করে সূর্য ডোবার আগের গাড়িতে পুনের উদ্দেশে রওনা হবেন ভাবলেন। কিন্তু কাশ্মীরের ছেলে, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা অরুণের মনে ছিল অন্য কিছু। অরুণ মৃণালকে তাঁর দুই কামরার অফিসে নিয়ে গিয়ে তাঁর সামনে এগিয়ে দিলেন টাইপ মেশিন আর একগুচ্ছ সাদা কাগজ। বললেন, ‘শোনো, তোমাকে এতক্ষণ বলিনি। তোমাকে এক্ষুনি একটা চিত্রনাট্য লিখে দিতে হবে। সেই অনেক আগে শোনা গল্পটার ওপর লিখবে, যেটা তুমি একবার আমায় বলেছিলে।’

গল্পটা ছিল বনফুলের।মৃণাল সেন তো আকাশ থেকে পড়লেন। বললেন, ‘চিত্রনাট্য মানে! আমাকে তো এক্ষুনি ট্রেন ধরতে হবে!’

অরুণ বললেন, ‘চিত্রনাট্য করতে চার ঘণ্টা লাগবে। ট্রেনের এখনো পাঁচ ঘণ্টা সময় আছে।’

মৃণাল আবার বললেন, ‘একটা চিত্রনাট্যের জন্য মাত্র চার ঘণ্টা!’

অরুণ হিসাব করে বললেন, ‘মোটামুটি একটা দশ-বারো পাতার আউটলাইন হলেই চলবে।’

চিত্রনাট্যটা অবশ্য মাথায় সাজানোই ছিল মৃণালের। স্ক্রিপ্ট হোক আর আউটলাইন হোক, সেগুলো তো যাবে নির্বাচকমণ্ডলীর টেবিলে। সুতরাং ভালো তো হতেই হবে।

অরুণ জানালেন, ফিল্ম ফাইন্যান্স করপোরেশন স্বল্প বাজেটে হিন্দি ছবি করার উদ্যোগ নিয়েছে। তারই একটা কাজ হলো এটা। 
চা, দুপুরের খাবারের আশ্বাস দিয়ে বাইরে থেকে তালা মেরে অফিস থেকে বের হয়ে গেলেন অরুণ। ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে লেখা হয়ে গেল মৃণালের। অরুণ খুশি। তখনই বললেন, ‘ছবিটা হিন্দিতে হবে। অভিনয় করবে উৎপল দত্ত আর শেখর চট্টোপাধ্যায়। নায়িকা পরে ঠিক হবে।

’হ্যাঁ, মাত্র দুই লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল ছবিটির জন্য। ‘ভুবন সোম’ নামের ছবিটা খুব প্রশংসা পেয়েছিল। 

সূত্র: মৃণাল সেন, তৃতীয় ভুবন, পৃষ্ঠা ৮৪-৮৬ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *