ভোটের মাঠে: সিলেট-১/হেভিওয়েটে ভরসা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির

বাংলাদেশ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকি এক বছর। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর নড়াচড়া। সভা-সমাবেশের পাশাপাশি নানা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে আজকের পত্রিকার নিয়মিত আয়োজন ‘ভোটের মাঠে’। 

‘সিলেট-১ আসন যাঁর, সরকার তাঁর,’ দেশের রাজনীতিতে প্রচলিত ‘মিথ’ এটা। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়ী সংসদ সদস্যের দলই সরকার গঠন করেছে। এ কথা মাথায় রেখে প্রতিটি দলই চায় শক্তিশালী প্রার্থীকে এই আসন থেকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে। আগামী নির্বাচনেও হেভিওয়েট প্রার্থীদের দিকেই ঝুঁকতে পারে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আছেন আওয়ামী লীগের আলোচনায়। আর বিএনপির পরিকল্পনা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে ঘিরে। তবে অনেকেই বলছেন, দুই দলেই চমক আসতে পারে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও আসনের মর্যাদা অনুযায়ী দলে তাঁর বিকল্প প্রার্থী নেই বললেই চলে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, মোমেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। নেতাদের একটি অংশ এই আসনে প্রার্থীর পরিবর্তন চায়। এ কারণে চমক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বেশ কয়েকটি নাম। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন, বিএনপি থেকে আগত সাবেক সচিব ইনাম আহমদ চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতেও এমন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে। নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন দলটির নেতারা। তবে এখন পর্যন্ত খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ছাড়া কারও নাম তেমন একটা আলোচনায় নেই। বর্তমানে তিনি মাঠেও সক্রিয়। আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি সিলেটে দলকে সংগঠিত করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই নেতা। তবে চমক থাকতে পারে বিএনপিতেও। এলাকার মেয়ে হিসেবে তারেকপত্নী জোবাইদা রহমানকে এই আসনে প্রার্থী করতে পারে বিএনপি। তবে জোবাইদার দুদকের মামলা জটিলতার বিবেচনায় মেয়ে জাইমা রহমানকেও স্বচ্ছ প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন দলটির অনেক নেতা।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বলছেন, ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে ঘিরেই মনোনয়নের আলোচনা চলছে। বিদেশ থেকে করোনার টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোমেনের কূটনৈতিক সফলতার কথা সবার মুখে মুখে। কিন্তু সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কয়েকটি বক্তব্য দেশে বিরূপ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে দল ও সরকার বিব্রত হয়েছে। এমনকি সারা দেশে বর্তমান সরকার যে গতিতে উন্নয়ন করেছে, সেই তুলনায় সিলেটে ধীরগতি। মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সারা দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে গতিতে উন্নয়ন করছেন, সিলেটে সেটি নেই। উন্নয়ন একদম হচ্ছে না, সেটা বলা যাবে না। তবে এটা আমাদের ব্যর্থতা। দেশে যা কিছু ঘটে, সবই রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে হয়। আগামীতে যেন ভিআইপি এই আসনে রাজনীতিবিদদের মনোনয়ন দেওয়া হয়।’

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নেওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় আরও আছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন, সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মুবিন চৌধুরী বীর বিক্রম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তবে কেউই এ ব্যাপারে নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। সবাই দলের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে।

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মালিকের ছেলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ কারণে দলের বাইরেও মুক্তাদিরের রয়েছে আলাদা কদর। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে তিনি সিলেট-১ আসনের নির্বাচনের টার্গেট নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। পরে উচ্চশিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক মুক্তাদিরকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নির্বাচিত করা হয়।

জানতে চাইলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। দল যখন যাকে যেখানে প্রয়োজন মনে করবে, তখন সেখানে তাকে কাজে লাগাবে। কেউ কোনো আসন বা প্রোগ্রামের জন্য চিরস্থায়ী নির্ধারিত নয়।’

প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দুই অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও আবুল মাল আবদুল মুহিতের এই আসন ‘ভিআইপি’ আসন হিসেবেও পরিচিত। হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমির আসনটি সব দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এই জনশ্রুতি মাথায় রেখে মাজার জিয়ারত এবং জনসভার মধ্য দিয়ে সিলেট থেকেই শুরু হয় সব দলের নির্বাচনী প্রচার। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তার আগে সারতে হবে প্রার্থী বাছাই।

তবে এই আসনের অঙ্ক মেলানো বেশ জটিল। কারণ, এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী আছেন অনেক, কিন্তু সবার জনপ্রিয়তা নেই। বড় দুই দলে এবং দলের বাইরেও এটি ভাবনার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *