শত তরুণের ভারত ভ্রমণ: দ্বিতীয় পর্ব/

লাইফ স্টাইল

সকালে ঘুম ভেঙে চোখ খুলে দেখি বাইরে টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে। সাড়ে ১০টায় ধানমন্ডিতে একটা বুট ক্যাম্প আছে। না যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, যেভাবেই হোক প্রোগ্রামে জয়েন করা লাগবে। অন্য কিছু চিন্তা না করে দ্রুত রেডি হয়ে গেলাম। এমন বৃষ্টি বাদলার দিনে কেন জানি ঘর থেকে বের হতে ইচ্ছে করে না। বৃষ্টি এক ধরনের স্নিগ্ধতা, পূর্ণতা, স্বচ্ছতা, সজীবতা। আমার বরাবরই বারান্দায় বসে বৃষ্টি উপভোগ করতে ভালো লাগে। বৃষ্টির ফোঁটা যখন টিনের চালে বা গাছের পাতায় পড়ে, সুন্দর একটা শব্দ হয়। শব্দটা সংগীতের মধুর বাদ্যযন্ত্র থেকে কোনো অংশে কম নয়।

ছাতা হাতে বের হয়ে গেলাম। ভাষানটেক বাজার থেকে মিরপুর-১০ পর্যন্ত সিএনজি করে চলে এলাম। মিরপুর দশ চত্বরে অপেক্ষা করছিল আমার এক জুনিয়র আর কে সোহান। ওর সঙ্গেই বুট ক্যাম্পে যাব। আর কে সোহান ধালাদের প্রতিষ্ঠাতা। এটা মূলত একটা ব্র্যান্ড। যেটা আমাদের বাংলাদেশের লোকাল, ট্র্যাডিশনাল এবং হেরিটেজ প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করে। মূলত বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে বিলুপ্তের হাত থেকে রক্ষা করা। এটা ই-কমার্স বেস্ড একটা স্টার্টআপ বিজনেস।

মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১ তারপর মিরপুর-১ থেকে ধানমন্ডির বাসে উঠলাম।

কলাবাগান বাস থেকে নামার মুহূর্তে একটা মেইল এল। শব্দটা কানে এসেছে। সঠিক লোকেশনটা না জানার কারণে ভুল করে কলাবাগান চলে এসেছি। তারপর আবার বাসে উঠে ধানমন্ডি ২৭-এর দিকে রওনা হলাম। ধানমন্ডি মিডাস টাওয়ার ইএমকে সেন্টার। কাক স্নান করে পৌঁছালাম। সকল প্রকার চেকিং শেষ করে প্রোগ্রামে উপস্থিত হলাম। পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখি ইন্ডিয়া হাইকমিশন থেকে মেইল আসছে। মুহূর্তেই অনেক এক্সাইটেড হয়ে পড়লাম। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য মেইল করেছে। বিষয়টা এরকম যে, আমাদের সবার পাসপোর্ট ঠিক আছে কিনা, যাদের পাসপোর্ট আছে তাদের আগামী তিন মাস পর্যন্ত মেয়াদ থাকা লাগবে। আর যাদের নেই, তাদের অতি দ্রুত পাসপোর্ট করে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাসপোর্টের স্ক্যান কপি মেইল করতে বলা হয়েছে।

আমি গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পাসপোর্ট করেছিলাম। এখন পর্যন্ত কোথাও যাওয়া হয়নি। আগামী ২০৩০ সালে ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ। আদৌ কি আমার বিদেশ ভ্রমণ হবে? নাকি কোনো রকম ভিসা ছাড়াই আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে? ভাবতে ভাবতে প্রোগ্রামের স্পিকার চলে এসেছে। সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করলাম। প্রোগ্রামটা মূলত নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে। যারা নতুন ব্যবসা শুরু করেছে বা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁদের বিভিন্নভাবে সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আমার আশপাশে এত এত নারী উদ্যোগতা তাদের দেখে বেশ ভালোই লাগছিল। তথাকথিত সমাজের চৌকাঠ পেরিয়ে নারীরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছে। নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছে। আমাদের দেশে নারী উদ্যোক্তাদের যদি সর্বোচ্চ সহায়তা ও সুযোগ দেওয়া হতো আমি বিশ্বাস করি নারীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং জিডিপি এর মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

প্রোগ্রাম শেষ করে বাসায় আসতে বিকাল হয়ে গিয়েছে। কিছু সময় রেস্ট করে টিউশনে চলে গেলাম। নন্দিতা হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস করেছে। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য আমার মেইল আসছে কি না, উত্তরে বললাম আসছে। সে জানাল, তারও আসছে। কিন্তু তার তো পাসপোর্ট এখনো হয়নি, কী করবে এখন?

‘কবে করতে দিয়েছিলে?’
নন্দিতা বলল, ‘অনেক আগে, অডিশনের পরেই।’
‘টেনশন করব না। ২৬ তারিখ তো শেষ দিন। তার আগে ইনশা আল্লাহ হয়ে যাবে।’
‘তুমি কি স্ক্যান কপি মেইল করেছ?’
আমি বললাম, ‘না সারা দিন আজ বাইরে ছিলাম। শেষ দিন তো ২৬ তারিখ। আজকে ১৪ তারিখ, অনেক সময় বাকি। এর মধ্যেই করে দেব।’
নন্দিতা মেয়েটা অনেক দুশ্চিন্তায় আছে। তার সঙ্গে কথা শেষ করে সুর্মিকে এসএমএস করলাম—কী অবস্থা তোমার, মেইল পেয়েছ?
সুর্মি বলল, ‘হ্যাঁ আপু, তুমি পেয়েছ?’
‘হ্যাঁ। নন্দিতাও মেইল পেয়েছে, কিন্তু ওর তো পাসপোর্ট এখনো হয়নি।’
সুর্মি বলল, ‘আপু, আমারও হয়নি।’
আমি বললাম, ‘যত দ্রুত সম্ভব করে স্ক্যান কপি মেইল কর। আমার মনে হয় যাদের মোটামুটি সিলেক্ট করার মতো তাদের ভেরিফিকেশন মিল করেছে। যদি পাসপোর্ট ঠিক থাকে তাহলে হয়তো ফাইনাল সিলেকশন করে ফেলবে।’
সুর্মি বলল, ‘সম্ভবত আমারও তাই মনে হয়।’
‘যত দূর জানি, বিগত বছরগুলোয় যারা সিলেক্ট হয়েছিল তাদের মাঝে অনেকেরই পাসপোর্ট ঠিক না থাকার কারণে যেতে পারিনি। আল্লাহ ভরসা টেনশন কর না।’
খানিক বাদে আমার বান্ধবী সামিরা এসএমএস করল। সে লিখল, ‘মেইল আসছে তোর?’
‘হে দোস্ত, পাসপোর্ট মেইল করতে বলল।’
‘মেইলটা আমাকে ফরওয়ার্ড কর তো।’
‘করেছি, চেক কর।’
সামিরা বলল, ‘না আমার এমন কোনো মেইল আসেনি। হবে না আমার, গুড লাক দোস্ত।’
‘অপেক্ষা কর, হাজার হাজার মেইল সেন্ড করেছে। নেবে তো মাত্র ১০০ জন, মেইল ফরওয়ার্ড করতে তো একটু সময় লাগবে।’

সামিরার সাথে কথা শেষ করে গ্রুপে এসএমএস চেক করলাম। যারা যারা মেইল পেয়েছে সবাই শেয়ার করছে। এই নিয়ে গ্রুপে তুমুল আলোচনা। অডিশনের দিন ত্রিদিব দাদা বলেছিলেন আপনারা নিজেদের মাঝে কথা বলে নেটওয়ার্কিং বাড়ান। আর আমাদের নেটওয়ার্কিং গতি ফাইভ-জি ইন্টারনেটের থেকেও বেশি। মুহূর্তেই ১০০ জনের বেশি মেম্বার নিয়ে গ্রুপ খোলা হয়ে গেছে। আর সেই গ্রুপে চলে রাত দিন নানা আলোচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *