শেয়ার বাজার/ফ্লোর প্রাইস তোলার পর লেনদেন কমেছে

অর্থনীতি

লেনদেন বাড়াতে স্বল্প মূলধনি ১৬৭ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরের ওপর থেকে আরোপিত ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমা প্রত্যাহারের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন বাড়েনি, উল্টো কমেছে। তবে এ নিয়ে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা মনে করেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া শেয়ারের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ১ শতাংশ রেখে সহসা ফল মিলবে না।

বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৯০ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০৯টির কম-বেশি কেনাবেচা হয়েছে। মোট লেনদেন হয়েছে ২২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার। এ লেনদেন বুধবারের তুলনায় ১০৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বা প্রায় ৩২ শতাংশ কম। গতকালের লেনদেন ২০২০ সালের ১৬ জুলাই বা প্রায় আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার যেখানে ব্লক মার্কেটে ৫৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, গতকাল তা বেড়ে ৮১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ব্লকে লেনদেন না বাড়লে সার্বিক লেনদেন ২০০ কোটি টাকাও পার হতো না। আবার ব্লকে যেসব শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, তার ৪৭ শতাংশ বা ৩৮ কোটি টাকার বেশি লেনদেন ছিল ফ্লোর প্রাইসের নিচে।

ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পরও কেন লেনদেন কম হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে একটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, যেসব শেয়ারে এখনও ফ্লোর প্রাইস আছে, সেগুলো অদূর ভবিষ্যতে তুলে দেওয়া হতে পারে এবং তা হলে এসব শেয়ারের দরপতন হতে পারে- এমন ভীতি আছে কিছু বিনিয়োগকারীর মধ্যে। এ কারণে তাঁদের মধ্যে নতুন করে শেয়ার কেনায় আগ্রহ কম। তাছাড়া অনেকে পরস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেন তিনি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি যে ১৩৩ শেয়ার ও ৩৪ মিউচুয়াল ফান্ডের ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছে, সেগুলোরও লেনদেন বুধবারের তুলনায় কমেছে। গত বুধবার এসব শেয়ার ও ফান্ডের মোট ৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকার কেনাবেচা হয়েছিল। গতকাল এগুলোর লেনদেন কমে ৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় নেমেছে।

সার্বিকভাবে গতকাল ডিএসইতে ৫২ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে, কমেছে ১০১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৫৬টির দর। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া শেয়ার ও ফান্ডের মধ্যে ২০টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৪টির এবং অপরিবর্তিত বা লেনদেন হয়নি ৬৩টির।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ সমকালকে বলেন, দেরিতে হলেও ফ্লোর প্রাইস নিয়ে বিএসইসি তার অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে, যা ভালো খবর। তবে যেভাবে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়ে নিচের সার্কিট ব্রেকার ১ শতাংশ করেছে, তাতে সহসাই কোনো ফল আসবে বলে মনে হয় না। কারণ যেসব শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তোলা হয়েছে, সেগুলোর সিংহভাগের বাজারমূল্য কম। ১৬৭ শেয়ারের মধ্যে প্রায় ১০০টির বাজারদর ৫ থেকে ৩০ টাকা। এখন যিনি ৩০ টাকা দরে কোনো একটি শেয়ার কিনছেন না, ৩০ পয়সা কমে পেলে কিনবেন, এমন ভাবা বোকামি। অনেকে মনে করতেন পারেন, এভাবে এক বা দুই সপ্তাহ ধরে একটু একটু কমে একটা পর্যায় এলে ক্রেতা আসবে, লেনদেন বাড়বে। তিনি এমন মনে করেন না। কারণ তখনও ১ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার থাকলে ওই বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির সময় ক্রেতা পাবেন কিনা, এমন ভয়ে থাকবেন।

আবু আহমেদের পরামর্শ, একবারে স্ট্যান্ডার্ড সার্কিট ব্রেকার চালু না করা হলে নিচের সার্কিট ব্রেকার আড়াই থেকে ৫ শতাংশ করা হোক। একই সঙ্গে লেনদেন বাড়াতে হলে সব শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার বিকল্প নেই। ফ্লোর প্রাইস তুলে দিয়ে সাময়িকভাবে দরপতন হতে পারে। তবে বাজার নিজে থেকে নিজের ক্ষত সারিয়ে তোলার সুযোগ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *