করোনার নতুন উপধরন নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের ওমিক্রনের নতুন উপধরন বিএফ.৭-এ বিপর্যস্ত চীন। এরই মধ্যে ভারতসহ ৯১টি দেশে অতিসংক্রামক এ ধরনে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাসটি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ ও নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করছে। ভারতে শনাক্ত প্রথম ‘ডেলটা’ ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ সরকার আগেভাগেই সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এ ছাড়া করণীয় নির্ধারণে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে গতকাল শনিবার রাতে বৈঠক করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আজ রোববার এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বিএফ.৭ উপধরন মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর সমকালকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ঢোকার নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে নমুনা পরীক্ষা জোরদারে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা এলে, সেই অনুযায়ী অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন উপধরন আসার পর প্রতিকারের চিন্তা না করে, এটি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য সময় নষ্ট না করে এখনই ধাপে ধাপে পদক্ষেপের কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে হবে। কারণ, ভারতে করোনা প্রাদুর্ভাবের অল্পবিস্তর পরেই বাংলাদেশে ভয়াবহ আকার নেয়। ভারতে শনাক্ত ডেলটা ধরনের ক্ষেত্রে যেমনটি হয়েছিল। এ জন্য এবার প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে থাকা সীমান্তে কঠোর নজরদারি থাকতে হবে। এরই মধ্যে বিএফ.৭ উপধরন চীন-ভারতসহ যেসব দেশে শনাক্ত হয়েছে, তারা বিমান, স্থলবন্দর বা দেশের সব প্রবেশপথে স্ট্ক্রিনিং জোরদার করেছে। পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশকেও এসব পদক্ষেপে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘বিদেশ থেকে দেশে প্রবেশের সব স্থানে স্ট্ক্রিনিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ কমিটিকে আরও সক্রিয় করতে হবে। মানুষকে বিএফ.৭ উপধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন উপধরন কখন আসবে, সে অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে অবস্থা বুঝে যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ধাপে ধাপে কৌশল প্রণয়ন করা, যেমন- যেসব দেশে উপধরনটি শনাক্ত হচ্ছে, সেখান থেকে দেশে আসার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিমানবন্দরে চীন ও ভারত থেকে আসা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। অস্বাভাবিক মনে হলে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে এখনও কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনের নির্দেশনা আসেনি।’

সূত্র জানায়, শনিবার রাতে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির ৮-১০ সদস্য অংশ নেন। বৈঠকে নতুন উপধরনে শনাক্তের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণের পাশাপাশি সরকারকে বিভিন্ন সুপারিশ করে কমিটি। নতুন পরিস্থিতিতে সরকারের করণীয় বিষয়েও বিশদ আলোচনা হয়।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক তাহমিনা শিরীন বলেন, ‘দেশে করোনার নতুন কোনো ধরন কিংবা উপধরন এলে, দ্রুত শনাক্তের সব ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে। জিনোম সিকোয়েন্স চলমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশে ওমিক্রনের নতুন কোনো উপধরন শনাক্ত হয়নি।’

দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ আসে প্রথম মৃত্যুর খবর। এরপর থেকে দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২০ লাখ ৩৭ হাজার ১৮ জন। তাঁদের মধ্যে মারা গেছে ২৯ হাজার ৪৩৮ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে। শুক্রবার থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র সাতজন।

এদিকে চীন-ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দেশ দুটির কাছে আক্রান্তদের সঠিক তথ্য চেয়েছে। নতুন উপধরন শনাক্তে পূর্ণাঙ্গ জিন বিশ্নেষণের তথ্য সর্বসাধারণের জানার জন্য উন্মুক্ত রাখতে বলছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উপধরনটি প্রতিরোধে ব্যাপক হারে টিকাদানের ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *