ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন যাঁরা

শিক্ষা

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অসাধারণ ফলের ভিত্তিতে যে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় এর মধ্যে অন্যতম হলো ডিনস অ্যাওয়ার্ড। গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর ১৮৬ জন শিক্ষার্থীকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বই লেখা ও গবেষণাকর্মের জন্য অনুষদের ৭ জন শিক্ষকও ডিনস অ্যাওয়ার্ড পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

১৮৬ জন পুরস্কার পাওয়া ছাত্রের একজন হলেন টেন মিনিট স্কুলের জনপ্রিয় মুখ, বর্তমান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনজেরিন শহীদ। তিনি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘সিনিয়রদের ছবিতে দেখতাম তাঁরা মা-বাবাকে সাথে নিয়ে “ডিনস অ্যাওয়ার্ড” নিতে আসেন, ছবি তোলেন। এবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম থেকে আমার সাথেও আমার মা-বাবা এসেছেন আমার এই অর্জনের অংশ হতে।’

অসাধারণ সাফল্যের অংশীদার এ রকম একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া তাঁদের জন্য স্বপ্নের মতো।

সমাবর্তনে গোল্ড মেডেল পাওয়ার পর ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জায়েদ। জায়েদ বলেন, ‘গোল্ড মেডেল ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরে গ্রামে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আমার গ্রামের প্রতি আমি বিশেষভাবে দায়বদ্ধ। আমার অর্জিত শিক্ষার স্ফুরণ কিছুটা হলেও আমি অবহেলিত গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাঝে শেয়ার করতে চাই।’

সংস্কৃত বিভাগের শায়লা ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নামক জ্ঞান সরোবরে প্রস্ফুটিত পদ্ম আমার অগ্রজ, অনুজ এবং বন্ধুদের সঙ্গে মা-বাবার উপস্থিতিতে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে পেরে আমি উল্লসিত, আনন্দিত ও গর্বিত। বলতে গেলে, বিনা পয়সায় দেশের মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে আমি উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছি। তাই দেশের সব স্তরের মানুষের কাছে আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে।’

পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাহিদ হোসাইন টিটু বলেন, ‘আমার স্বপ্ন সফল হয়েছে কলা অনুষদের পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলের মধ্য দিয়ে।’

আরবি বিভাগের আতহারুল ইসলাম শাহেদ বলেন, ‘এই কৃতিত্বের অংশীদার আমার শিক্ষক পিতাও, যিনি অজপাড়াগাঁয়ে থেকেও স্বপ্ন দেখাতেন আকাশ ছোঁয়ার। সত্যিই আজ আমি আকাশ ছুঁয়েছি। আমার বাবা আমার সব!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *