সুশাসনে ঘাটতি, উন্নয়ন ম্লান

মতামত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৮ সালে ঘোষিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ লক্ষ্য হিসেবে গণতন্ত্র, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। অঙ্গীকারে আরও ছিল দুর্নীতি-সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল।

‘রাতের ভোট’ বলে বহু সমালোচিত ওই নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে। এই মেয়াদের চতুর্থ বছর পেরিয়ে পঞ্চম তথা শেষ বছরে যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। পরবর্তী জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদের ভোট গ্রহণ নির্ধারিত হলেও চলতি বছরটিই নির্বাচনী বছর হিসেবে জনগণের আলোচনায় থাকবে- আওয়ামী লীগ সরকার অঙ্গীকার কতখানি পূরণ করতে পেরেছে।

বিশ্নেষকরা বলছেন, কোনো সন্দেহ নেই- বহু উন্নয়ন কাজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ভূয়সী প্রশংসা পেলেও গণতন্ত্র, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে রয়েছে প্রবল সমালোচনা।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছিল। এ হিসাবে বর্তমান মেয়াদের সরকারের চার বছর পূর্তি হচ্ছে আজ। এর আগে ২০০৮ সালে নবম এবং ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট। ওই দুই মেয়াদেও প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

সুশাসন প্রসঙ্গ: বিশ্নেষকরা বলছেন, গেল চার বছরে দেশে অবাধ গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বারবার। সর্বশেষ আন্দোলনরত বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ, প্রশাসন, সরকার সমর্থকদের হামলা-মামলা ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের হামলা, তল্লাশি ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনা ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই। দলটির শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হয়ে এখনও কারাগারে।

এই সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একদিকে স্বাধীনতার ৫০ বছরে প্রথমবারের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন, সাংবিধানিক রীতিনীতি অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করে আর্থিক সক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরিয়ে এনে কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া, স্বচ্ছ ও ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট- এগুলো এই সরকারেরই সাফল্য। অন্যদিকে গত চার বছরে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারসহ প্রতিটি নির্বাচন বারবার বিতর্কিত হয়েছে। যার সর্বশেষ উদাহরণ গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন। গুরুতর অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় গত ১২ অক্টোবর প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত ভোট মাঝপথে বন্ধ করে দিতে হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। পরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ৪ জানুয়ারি পুনঃভোট গ্রহণযোগ্য হলেও ভোটারের উপস্থিতি ছিল কম।

বিশ্নেষকদের মতে, একটি সচল সংসদ থাকলেও এই সংসদের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও তাদের ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দলের তকমা ঘোচেনি গত তিন মেয়াদেও। এর ওপর বর্তমান সংসদের বিএনপিদলীয় ছয়জন এমপির পদত্যাগের পর সংসদ কার্যত ‘বিরোধী দলশূন্য’।

করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। মাস্ক ও পিপিই ক্রয়, সরবরাহ এবং করোনা পরীক্ষা নিয়ে কেলেঙ্কারি সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। তবে করোনার টিকায় সরকার ভালো সাফল্য দেখিয়েছে। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, খুন-জখম, ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়াসহ মতপ্রকাশে বাধার ঘটনায়ও সমালোচনা রয়েছে বিস্তর। বিরোধী মতের মানুষকে গুম-খুনের অভিযোগ নিয়ে রাস্তায় সরব রয়েছে তাদের পরিবার। র‌্যাব ও পুলিশের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ নানা ঘটনাপ্রবাহে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিও প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারবিরোধী কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে সচেতন মহলে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নানা তথ্য-উপাত্ত ও সূচক দেশে কার্যকর গণতন্ত্র তথা সুশাসন অর্জনের ক্ষেত্রে অগ্রগতির পরিচায়ক নয়। মানবাধিকার, কথা বলার অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অনেকাংশে অনুপস্থিত। নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রকৃত বিরোধী দলহীন সংসদ আসলে একদলীয় সংসদের রূপ পেয়েছে। তাই গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা বহুলাংশে অধরাই রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, অনেক দেশেই কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে খুব কম দেশই আমাদের দেশের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এটার পরিণতি অমঙ্গলকর। কেননা, নির্বাচনই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র পথ। এটা রুদ্ধ হয়ে গেলে অশান্তি ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এবং সহিংসতার পথে ক্ষমতা বদলের পথ প্রশস্ত হয়। এটা কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না।

অর্থনীতি: গত চার বছরে অর্থনীতির সব সূচকে দেশ অনেকটাই এগিয়ে ছিল। করোনা শেষে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতি সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যয় সংকোচন ও সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। এ বছর সংকট মোকাবিলায় সরকার কতটুকু দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে, তার ওপর নির্ভর করছে সাফল্য। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। সংকটের আগে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদে দেশের অর্থনীতির সব সূচকেই সামগ্রিক অগ্রগতি ছিল ইতিবাচক। অর্থনীতিতে করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব অনেক উন্নত দেশের ওপরেও পড়েছে।

ডিজিটালে সাফল্য: ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে ‘সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার’- এমন নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অনেকটা সাফল্য দেখিয়েছে সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে সাড়ে তিন গিগাহার্জ ব্যান্ডে ফাইভ-জি সেবা চালু হয়েছে। দু’ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক ও আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ স্থাপনের পর এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে।

করোনার লকডাউনেও অনলাইনে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও ব্যাংক-বীমার কাজ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধরে রাখার প্রয়াস ছিল; করোনা শেষে যা পূর্ণ মাত্রা পেয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পূরণের পর সরকার এখন ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার বুকে উচ্চতর প্রযুক্তিসমৃদ্ধ মেট্রোরেল চালু সেই স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসরতার প্রতীক বলে অনেকে মনে করেন।

আরও সাফল্য: নির্বাচনী অঙ্গীকারের ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ স্লোগান বাস্তবায়নে প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত ভিতে ধরে রাখতে গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্প অব্যাহত রয়েছে। কেবল মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ লাখেরও বেশি গৃহহীনকে ঘর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পল্লি অঞ্চলে উন্নত রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো তৈরি, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প; বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ ২৯ শতাংশ পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এনে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির প্রচেষ্টা সফলতার সঙ্গে এগিয়েছে। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ম্ফীতির কথা মাথায় রেখে টিসিবির মাধ্যমে ১ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

‘মেগা প্রজেক্টগুলোর দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন’- এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১০টি মেগা প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি এসেছে সমানতালে। গত বছরের ২৫ জুন নিজস্ব অর্থে নির্মিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর মাধ্যমে দেশ উন্নয়ন-অগ্রগতির নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। রাজধানীতে ২০ কিলোমিটারের মেট্রোরেলের আংশিক চালু ছাড়াও কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের কাজ শেষের পথে। এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, পায়রা বন্দর ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং মহাসড়কগুলোকে চার লেনে উন্নীতকরণসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পের কাজও গতি পেয়েছে।

‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা’- এমন নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে ২৫ হাজার ৭৩০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছে কৃষি ও মৎস্য খাতেও। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, আলু উৎপাদনে ষষ্ঠ, কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ উৎপাদনে প্রথম অবস্থানে। বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে যেতে পারলেও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। তাঁর সেই অসমাপ্ত কাজ এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা করছেন।

নানা ব্যর্থতা: ‘দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা’র অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থতার কারণে সরকারকে সমালোচিত হতে হচ্ছে। চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে আরেক দফা বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। সর্বশেষ গত অক্টোবরের হিসাবে মূল্যস্ম্ফীতি ৮ দশমিক ৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়াও ছিল হতাশাজনক।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ‘নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা’- নির্বাচনী অঙ্গীকারের কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে! ‘তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি :তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা’- এই নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণও খুব বেশি অগ্রসর হয়নি। বেকারত্ব ও কর্মহীন যুবকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। যদিও গত ১৪ বছরে প্রায় ৩ কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের দাবি করছে সরকার।

সরকারের বর্তমান মেয়াদের চার বছরের মূল্যায়ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, গত নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ীই দেশ পরিচালনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে ‘শূন্য সহিষুষ্ণতা’র কথা বলা হয়েছিল, সেই জায়গায় সরকারের আরও জোর দেওয়া ও সতর্কতা দরকার। মানুষের নিত্যদিনের সংকট মোচনে আরও তৎপর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, যার শুরু ভালো, তার শেষটাও ভালো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি তাঁর দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন এবং তৃতীয় মেয়াদের চার বছর পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন; তাতে আমরা আশা করতেই পারি- অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তিনি তাঁর বর্তমান মেয়াদও শেষ করবেন। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রেখে বাংলাদেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *