উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাড়বে শীতের দাপট

বাংলাদেশ

প্রবাদ আছে ‘মাঘের শীতে বাঘ পালায়’। কয়েক বছর ধরেই এমন শীতের আশায় ছিল মানুষ; কিন্তু দেখা মিলছিল না। শীত কেন নেই- এই প্রশ্নই কেবল ঘুরপাক খেয়েছে মনে। তবে এবার তাঁরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ওই প্রবাদের মর্মার্থ।

আজ রোববার মাঘের শুরু হলেও এবার সেই মাঘের শীত শুরু হয়েছে পৌষ মাসের শুরু থেকে। টানা এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিরতি দিচ্ছে না কনকনে শীত। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বইছে টানা শৈত্যপ্রবাহ। কয়েকটি জেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি জনজীবন আরও কাবু করে তুলেছে। পৌষের শীত পার হলেও কয়েক দিনের মধ্যে ‘মাঘের শীত’ জেঁকে বসবে আবার। তবে উত্তরাঞ্চলসহ গ্রামীণ জনপদ শীতে কাঁপলেও ঢাকাবাসী আর এ মৌসুমে হাড়কাঁপানো শীতের দেখা পাবে না।

গতকাল শনিবার পঞ্চগড়ের তেঁতুুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মৌসুমের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায়। গত ৬৮ বছরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে বছর তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল দেশের আটটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে এবং অনেক জেলায় তা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে আসতে পারে। সোম ও মঙ্গলবার আবারও তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, ‘ভারত থেকে পশ্চিমা মেঘের প্রভাবে আজ রোববার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ভারতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তার প্রভাবে আমাদের এখানেও তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় বিক্ষিপ্তভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাতের ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঢাকাতেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময় তাপমাত্রা আরও কমে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।’

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, গতকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা কেটে গেছে। দেশের মধ্যাঞ্চলের ভূ-পৃষ্ঠে কুয়াশার যে প্রভাব রয়েছিল তা কেটে উঠতে পারেনি ঊর্ধ্বাকাশে থাকা মেঘ। বঙ্গোপসাগর থেকে খুবই অল্প পরিমাণ জলীয়বাষ্প বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশ করছে। আজ সকালে নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, ১৮ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবারও এক সপ্তাহের জন্য দেশব্যাপী কুয়াশা ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

ঢাকায় শীতের অনুভূতি কম থাকবে :রাজধানী ঢাকায় গত ৫ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল ঘন কুয়শার সঙ্গে হাড়কাঁপানো শীত। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-এর নিচে না নামলেও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ছিল মাত্র ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে গত ৭ জানুয়ারি চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ওই সময় উত্তুরে হাওয়ার কারণে ঢাকায় এবার শীতের অনুভূতি ছিল বেশি। ঢাকায় সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে। অর্থাৎ শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানান, এ মৌসুমেও ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহ চললেও ঢাকা তার ছোঁয়া পাবে না। তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে না।

কাঁপছে পঞ্চগড় :গতকাল সারাদেশে তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সকালে সূর্য উঁকি দিলেও সঙ্গে ছিল উত্তরের হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়া। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুররা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। শীত এবং হিমশীতল বাতাসের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *