আম রপ্তানিতে শীর্ষ দশে যেতে চায় বাংলাদেশ

অর্থনীতি

ফলের রাজা আম। আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। ২০২১ সালে দেশে ১ লাখ ৭৯ হাজার টন আম উৎপাদিত হয়। কিন্তু রপ্তানি বাজারে বিশ্বের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। ওই বছর রপ্তানি হয় মাত্র ১ হাজার ৬২৩ টন। দেশের বাজারেও চাষিরা তেমন ভালো দাম পাচ্ছেন না। সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে আম রপ্তানির কথা বলা হলেও কার্যকর ফল আসেনি।

এবার আমের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন আশা জাগাচ্ছে সরকার। আমের রপ্তানি বাড়াতে ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ৪৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মাধ্যমে মানসম্মত আম উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষক, কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগীদের দক্ষতা বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি চলবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) প্রকল্পের অবহিতকরণ কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে রপ্তানিকারক, উদ্যোক্তা, আমচাষিসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। তাঁরা দেশে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম চাষ এবং আমের আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের ওপর জোর দেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার। বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুলল্গাহ, বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ড. মনজুরুল ইসলাম ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশের আমের জাতগুলোর ‘সেলফ লাইফ’ কম, অর্থাৎ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সংগ্রহ-পরবর্তী পর্যায়ে শনাক্তকরণের অভাব, আন্তর্জাতিকমানের প্যাকেজিংয়ের অভাব, আমের ব্র্যান্ডিং ইমেজ সৃষ্টি না হওয়া এবং দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে বাড়ছে না রপ্তানি।

সভায় জানানো হয়, ২০২০ সালে থাইল্যান্ড বিশ্বের সর্বোচ্চ ৭৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের আম রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার ও পাকিস্তান ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের আম রপ্তানি করে। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র ৫০ হাজার ডলারের (৪২ লাখ টাকা) আম রপ্তানি করে, যার বড় অংশের ক্রেতা মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কর্মশালায় আমের রপ্তানি বাড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আমের যথেষ্ট সুনাম ও চাহিদা রয়েছে। ফলে আমকে ব্যাপকভাবে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সে জন্য বিভিন্ন রপ্তানি বাধা চিহ্নিত করে তা নিরসনে প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ চলছে। আগামী পাঁচ বছরে উৎপাদনের মতো রপ্তানিতেও বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দশে স্থান করে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন সচিব। তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকায় উৎপাদিত উন্নত মানসম্মত নিরাপদ আম উৎপাদন হবে। এতে বাড়বে রপ্তানি। প্রক্রিয়াজাত সহায়তার বাজারজাতকরণে উন্নয়ন ঘটবে। কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পটি ১৫টি জেলার ৪৬টি উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদন প্রদর্শনী, রপ্তানিযোগ্য জাতের আমবাগান সৃজন, আমবাগানে সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানসম্মত আম উৎপাদন প্রদর্শনী হবে। আমের পাঁচটি জাতের ‘প্রোডাক্ট প্রোফাইল’ তৈরি করা হবে। আম উৎপাদনকারীদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। বিশ্ববাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘মার্কেট লিংকেজ’ তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভাইজার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমের দিকে সুনজর দিলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *