ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উপনির্বাচন

ভোটের ময়দান

আওয়ামী লীগের ছায়ায় ফুরফুরে উকিল সাত্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে লড়াইয়ে আছেন চার প্রার্থী। তবে আওয়ামী লীগের ছায়ায় থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভুঁইয়া।

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে সদ্য বহিস্কৃত আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু আসিফ আহমেদকে তিন দিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে না। গত বুধবার রাতে পুলিশ তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হানা দিয়ে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মুছা মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই চুপসে গেছেন তিনি। রহস্যজনক কারণে তিনি আর গণসংযোগে নেই। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে তেমন তৎপরতা চালাতে পারছেন না।

জানা গেছে, সংসদ থেকে পদত্যাগী উকিল আবদুস সাত্তারের সঙ্গে তাঁর ছেড়ে আসা দল বিএনপির কর্মী-সমর্থক না থাকলেও আওয়ামী লীগ ছায়া হয়ে থাকায় প্রচারণার মিছিলে লোকের অভাব হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যানারে না হলেও ‘আবদুস সাত্তার সমর্থক গোষ্ঠী’র ব্যানারে মূলত ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীই উকিল সাত্তারের ভোটের প্রচারণায় সরব রয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার বিকেলে আশুগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আবদুস সাত্তার সমর্থক গোষ্ঠীর ব্যানারে কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। তালশহর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সোলেমান মিয়ার সভাপতিত্বে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল-মামুন সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপির ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে জাতীয় সংসদ থেকে উকিল আবদুস সাত্তার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি পাঁচবারের নির্বাচিত এমপি। তৃণমূলে তাঁর ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এদিকে এ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাসী। তাই আওয়ামী লীগ উকিল আবদুস সাত্তারকে সমর্থন দিয়েছে। নির্বাচনে তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হবে, আওয়ামী লীগ অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাসী।

কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি ছফিউল্লাহ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের আহাম্মদ, উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন উদ্দিন মঈন ও অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হান্নান রতন, যুবলীগ নেতা মনির সিকদার প্রমুখ।

এদিকে শনিবার সকালে আশুগঞ্জের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উকিল সাত্তারের সমর্থনে আরেকটি কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে এ সভায় আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উকিল আবদুস সাত্তারকে জয়ী করতে উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানান।

গতকাল বিকেলে সরাইলের চুন্টা বাজারে উকিল সাত্তারের সমর্থনে আরেকটি সভা হয়। ওই সভায় চুন্টা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উকিল সাত্তারের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলি আজাদ, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, চুন্টা ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল উদ্দিন, সমীর চন্দ্র ভৌমিক, মাঈনুল হাসান ভুঁইয়া তুষার প্রমুখ।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল হামিদ ভাসানী শনিবার দিনভর সরাইল সদর ইউনিয়ন ও চুন্টা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *