মার্কিন পুলিশের বর্বরতা-মা মা বলে চিৎকারের সময় মুখ চেপে ধরে পুলিশ

আন্তর্জাতিক

মার্কিন পুলিশের বর্বরতায় ফের এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের মেম্ম্ফিসে টায়ার নিকোলস নামে ওই যুবকের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানোর তিন দিন পর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

এদিকে, পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। ৭ জানুয়ারি ট্রাফিক আইন অমান্য করায় সড়কেই তাঁর ওপর বর্বরতা চালান দেশটির পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁরা প্রত্যেকেই কৃষ্ণাঙ্গ। বরখাস্তের পর যাঁরা এখন কারাগারে। খবর সিএনএনের।

ভিডিওতে দেখা যায়, ৭ জানুয়ারি রাত ৮টা ২৪ মিনিটের দিকে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ওই কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে প্রাইভেটকার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামান কয়েক পুলিশ কর্মকর্তা। এর পর সড়কে ফেলেই লাথি, কিল-ঘুসি মারতে থাকেন তাঁরা। এ সময় তাঁকে গালাগালও করেন পুলিশ সদস্যরা। পায়ে তাক করে রাখা হয় পিস্তল। এক পর্যায়ে নিকোলস পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য দৌড় দেন। কিন্তু পালাতে পারেননি। কিছুদূর দৌড়ে তাঁকে ফের আটক করে চরম নির্মমতা চালানো হয়। এ সময় তাঁর হাতে হাতকড়া লাগিয়ে দেয় পুলিশ। চরম মারধরের সময় যখন তিনি মা মা বলে চিৎকার করছিলেন, তখন তাঁর মুখ চেপে ধরেন পুলিশ সদস্যরা। টানা নির্যাতনের এক পর্যায়ে লুটিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই যুবককে।

এদিকে, প্রায় ২৫ মিনিট নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।

ভিডিওটিকে ‘ভয়ানক ভিডিও’ উল্লেখ করে ‘অত্যন্ত ব্যথিত’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোয় নিকোলসকে আটক করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যরা এখন কারাগারে। গত সপ্তাহে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়। এরই মধ্যে প্রকাশ পেল ওই নির্মমতার ভিডিও।

এর আগে ২০২০ সালে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েড নামে ৪৬ বছর বয়সী একজন কৃষ্ণাঙ্গকে অবৈধ মুদ্রা রাখার দায়ে আটকের পর হাঁটু দিয়ে ৯ মিনিট মাথা চেপে রেখে হত্যা করে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা। এর পর গত বছরের শুরুর দিকে মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে আরও এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যা করে পুলিশ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *