আইএমএফকে সরকারের প্রতিশ্রুতি-বাড়ানো হবে রাজস্ব আদায়, কমবে খেলাপি ঋণ

অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছর থেকেই নির্দিষ্ট হারে রাজস্ব আদায় বাড়াবে সরকার। প্রথম বছর বাড়বে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৬ সালের মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে ১০ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এটি হবে ৫ শতাংশের কম।

এ ঋণ বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আইএমএফের স্টাফ রিপোর্ট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা নানা বৈঠক আর আলোচনার পর গত সোমবার বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড। বৃহস্পতিবার সেই ঋণের প্রথম কিস্তি হিসাবে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।

আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ঋণের বাকি কিস্তি ছাড় করতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তার সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে আইএমএফের স্টাফ রিপোর্টে।

এতে বলা হয়েছে, আইএমএফ প্রতিনিধি দলের আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন খাতে সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। সরকারের আগ্রহপত্র এবং অর্থনীতি ও আর্থিক নীতিসম্পর্কিত স্মারকেও এ বিষয়গুলো আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর-নীতি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরের বাজেটেই সুর্নিদিষ্ট কিছু উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। এর পরের দুই অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বাড়ানো হবে জিডিপির শূন্য দশমিক ৫ এবং শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হারে। সেই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হবে।

খেলাপি ঋণের উচ্চ হারের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করবে। এটি হবে সুনির্দিষ্ট ব্যাংকভিত্তিক। ২০২৬ সাল নাগাদ খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি সব ব্যাংকে মূলধন পর্যাপ্ততা এবং নিরাপত্তা সঞ্চিতির হার নির্ধারিত মাত্রায় উন্নীত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৬০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া বিশেষায়িত তিন সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। এটি তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ রয়েছে ৬৬ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

আইএমএফের মতে, চলতি অর্থবছরে গ্যাস ও বিদ্যুতের ভর্তুকি বেড়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তাই সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোকে ইতিবাচক পদক্ষেপ মনে করছে সংস্থাটি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার গ্যাস ও বিদ্যুতের ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার উপায় খুঁজে বের করবে। জ্বালানি খাতে সময়ে সময়ে মূল্য সমন্বয়ের জন্য একটি কাঠামো ঠিক করা হবে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *