বাজারে এসেছে ইলেকট্রিক বাইক

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

তীব্র যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা প্রায় প্রতিটি শহরে। এই যানজট এড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কাজের জায়গায় পৌঁছানোর জন্য ইলেকট্রিক বাইক এনেছে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। এই ইলেকট্রিক বাইকের নাম তাকিওন। এই ই-বাইক একবার রিচার্জ করলে যাতায়াত করা যাবে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন পেয়েছে ওয়ালটনের ইলেকট্রিক বাইক তাকিওন। এখন থেকে প্রচলিত গ্যাসোলিন বাইকের মতো বিআরটিএর নিবন্ধন নিয়ে বাংলাদেশের রাস্তায় বৈধভাবে চলতে পারবে এটি।

চারটি ভার্সনে তাকিওন
ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রকৌশলী লিয়াকত আলী জানান, ওয়ালটনের লোগোসংবলিত হলেও তাকিওন ব্র্যান্ড নামে ই-বাইকটি বাজারজাত করছেন তাঁরা। তাকিওন ১.০০ মডেলের ইলেকট্রিক বাইক বাজারে ছাড়া হয়েছে। লাল, নীল ও ধূসর রঙের বাইকটির দাম মাত্র ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৫০ টাকা।

দেশে ওয়ালটনের শোরুমের পাশাপাশি অনলাইনের ওয়ালটন ডিজিটেক ওয়েবসাইট ডটকম থেকে বাইকটি কেনা যাবে।

এ ছাড়া সাশ্রয়ী মূল্যে তাকিওন লিও নামের একটি মডেল বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। এটি মিলছে তিনটি ভার্সনে। এগুলো ওয়ালটন ডিজিটেক ওয়েবসাইট থেকে প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে। এ তিনটি ভার্সনের ব্যাটারি ক্যাপাসিটি তিন ধরনের। ফলে এগুলোর দামের মধ্যে তারতম্য আছে।

তাকিওন লিও ১২ অ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি প্যাকে এন্ট্রি লেভেলের ভার্সনে পাওয়া যাচ্ছে। এক চার্জে বাইকটি চালানো যাবে ৪০ কিলোমিটার। এর দাম ৪৯ হাজার ৮৫০ টাকা। তাকিওন লিও ২০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি প্যাকে মাইলেজ মিলবে ৭০ কিলোমিটার। বাইকটির দাম ৫৬ হাজার ৮৫০ টাকা। তাকিওনের হাই এন্ড ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি প্যাকে। যার দাম ৫৯ হাজার ৮৫০ টাকা।

প্রকৌশলী লিয়াকত আলী জানিয়েছেন, প্রচলিত গ্যাসোলিন (প্র-অকটেন)-চালিত বাইকের মতো ওয়ালটনের ই-বাইক ২ কিংবা ১০ বছরের জন্য বিআরটিএর নিবন্ধন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ওয়ালটন ই-বাইকের নিবন্ধন খরচ গ্যাসোলিন বাইকের চেয়ে বেশ কম।

ওয়ালটনের কম্পিউটার পণ্য এবং তাকিওন ইলেকট্রিক বাইকের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান রাদ জানান, আকর্ষণীয় ডিজাইনের তাকিওন ১.০০ মডেলের ইলেকট্রিক বাইকে রয়েছে শক্তিশালী ব্রাশলেস ডিসি মোটর, যার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১ দশমিক ৫ কিলোওয়াট। এতে ব্যবহৃত হয়েছে নতুন প্রযুক্তির গ্রাফিন বেসড ব্যাটারি, যার ধারণক্ষমতা ১ দশমিক ৬ প্রতি ঘণ্টায় কিলোওয়াট। একবার চার্জে বাইকটি ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দেবে। বাইকটির সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় 
৫০ কিলোমিটার।

নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব গ্রাফিন বেজড ব্যাটারি ৬০০ থেকে ৮০০ সাইকেলসমৃদ্ধ। ফলে এটি নিশ্চিন্তে ৩ বছর ব্য̈বহার করা যাবে। বাইকটিতে রয়েছে পোর্টেবল চার্জার। বাড়িতে ব্যবহৃত ২২০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইন থেকে ওয়ালটনের ই-বাইকে চার্জ দেওয়া যাবে। বাইকটির 
উভয় চাকায় ব্যবহৃত 
হয়েছে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক ও টিউবলেস টায়ার। রয়েছে এলসিডি স্পিডোমিটার ও এলইডি লাইটিং।

ওয়ালটন ই-বাইকের সুবিধা

  • ১০০ সিসির তেলচালিত বাইক ১ লিটার তেলে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার চলে। কিন্তু ইলেকট্রিক বাইক একবার চার্জে চলে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
  • তেলচালিত বাইকে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় ২ টাকা বা এর বেশি। অন্যদিকে ইলেকট্রিক বাইকে প্রতি কিলোমিটারে খরচ মাত্র ১০ থেকে ১৫ পয়সা।
  • তেলচালিত বাইকে শব্দ ও পরিবেশদূষণ হয়। কিন্তু ইলেকট্রিক বাইক শব্দদূষণমুক্ত। গ্রাফিন বেজড ব্যাটারি ব্যবহার করায় এটি পরিবেশবান্ধব।
  • তেলচালিত বাইকে নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রয়োজন হয়। ই-বাইকে তেলচালিত বাইকের তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত কম।
  • তেলচালিত বাইকে ম্যানুয়াল ক্লাচ গিয়ার থাকায় এটি চালানো কষ্টসাধ্য। কিন্তু ই-বাইক সম্পূর্ণ অটো গিয়ার। ফলে এটি চালানো সহজ ও আনন্দদায়ক।
  • প্রচলিত গ্যাসোলিন বাইক তেলে চলে, অন্য̈দিকে ই-বাইক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ঘরেও সহজেই চার্জ করা যায়।

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার রোধের মাধ্যমে পরিবেশের সুরক্ষা এবং কম খরচে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ই-বাইক তৈরি ও বাজারজাত করছেন তাঁরা। ওয়ালটনের নির্ধারিত সার্ভিস পয়েন্ট থেকে তাকিওন ইলেকট্রিক বাইকে ২ বছর পর্যন্ত বিনা মূল্যে বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *