প্রকল্প শেষ, তবু বিদেশভ্রমণে ৮ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ

প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেছে। অথচ সেই প্রকল্পের অধীনে বিদেশ ভ্রমণে গেছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সাবেক ও বর্তমান আট কর্মকর্তা। বিদেশ ভ্রমণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অত্যন্ত গোপনে এই কর্মকর্তারা থাইল্যান্ড সফরে গেছেন। গোপনীয়তা রক্ষা করতে একসঙ্গে না গিয়ে তাঁরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে।

বৈশ্বিক সংকট এবং দেশে ডলার সংকটের কারণে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সম্প্রতি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত নভেম্বরে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় মন্ত্রণালয়/ বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং আওতাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/ আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর সব কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

আরডিএ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী শহরের মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের অধীনে মোট আটজন কর্মকর্তা থাইল্যান্ড সফরে গেছেন। এর মধ্যে আরডিএর কর্মকর্তা ছয়জন। অন্য দুজন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। আরডিএর ছয়জনের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনওয়ার হোসেনও আছেন। তিনি এখন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক। তিনি যখন আরডিএর চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন ওই প্রকল্পের কাজ হয়। এখন আরডিএতে না থাকলেও তিনি কেন সফরে গেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই সফরকে বিলাসিতা বলছেন অনেকেই।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ৫ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে থাইল্যান্ড গেছেন আরডিএর নগর পরিকল্পক আজমেরি আশরাফী, স্টেট অফিসার বদরুজ্জামান ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনওয়ার হোসেন। দ্বিতীয় দফায় তিন দিন পর ৮ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ড গেছেন আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট টাউন প্ল্যানার রাহেনুল ইসলাম রনি। আরডিএর নিজস্ব খরচ, নাকি ঠিকাদারের টাকায় তারা ভ্রমণে গেছেন তা জানা যায়নি।

আরডিএ সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের কিছুদিন আগেই ২১ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের অধীনে থাইল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে তাঁরা যেতে পারেননি। পরে বিদেশ ভ্রমণে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তাঁদের ভ্রমণও আটকে যায়। এর মধ্যেই প্রকল্পের অধীনে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। মো. আনওয়ার হোসেনকে আরডিএ থেকে বদলি করে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। এরপরও তাঁরা ওই প্রকল্পের অধীনে বিদেশ ভ্রমণে গেছেন। কাজ শেষ হওয়া একটি প্রকল্পের অধীনে কেন তাঁরা বিদেশ ভ্রমণে গেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের অধীনে ২৪ বছরের জন্য রাজশাহীর ওপর মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি টাকা। তিনটি প্রতিষ্ঠান এ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে। এর একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে আরডিএর নগর পরিকল্পক আজমেরী আফসারীর স্বামী চাকরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছিলেন আরডিএর ছয় কর্মকর্তা। তাঁরা প্রকল্পের ভেতর একটি বিদেশ ভ্রমণও রেখেছিলেন।

শেষ হওয়া প্রকল্পের জন্য সাবেক চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলতে আরডিএর বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউল হককে রোববার সারা দিনে কয়েক দফা ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তাই এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *