সরকারি হাসপাতাল: বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা দিতে আলোচনায় নীতিমালা

বাংলাদেশ

৩০০ টাকার টিকিট কেটে সরকারি হাসপাতালে অফিস-পরবর্তী সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নেওয়া যাবে। বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত মিলবে এই সেবা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি থাকবে ছোট-বড় অস্ত্রোপচার ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা। আদায় করা অর্থের একটি অংশ পাবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, একটি অংশ পাবে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং একটি অংশ যাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।

এ ধরনের নানা নিয়ম রেখে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস পরিচালনায় একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। যার নামকরণ করা হয়েছে ‘অফিস সময় পরবর্তী বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা-২০২৩’। এটি দেশের সব সরকারি (ইনস্টিটিউট, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের) হাসপাতালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

এটা নিয়ে আজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। খসড়া নীতিমালায় কোনো সংযোজন-বিয়োজন থাকলে সেটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ—স্বাচিপ সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সভায় প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হবে। এই সভায় নীতিমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে না। এ জন্য আরও একাধিক সভা করতে হতে পারে। তবে আগামী মার্চেই যেন এটি শুরু করা যায় সেই চেষ্টা থাকবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, এটি স্বল্পমেয়াদি হলে এক বছরের জন্য করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জেলা হাসপাতালে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মধ্যমেয়াদি হলে ৫০ শতাংশ উপজেলা ও ৫০ শতাংশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি হলে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে কমপক্ষে তিন বছরের জন্য।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসমূহে জনগণ ৩০০ টাকার বিনিময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন। টিকিট কেনার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে দুইবার পরামর্শ নিতে পারবেন। তবে টিকিট কেনার পর ৩০ দিন পার হলে আবার নির্ধারিত ফি দিয়ে টিকিট নিতে হবে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনে সরকারি অপারেশন থিয়েটার ও অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ভর্তি হতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন, আগামী ১ মার্চ থেকে প্রায় এক শর মতো উপজেলা, জেলা ও টারশিয়ারি পর্যায়ে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস সেবা চালু করা হবে। ওই দিন নীতিমালার খসড়া প্রণয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১১ সদস্যাবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৭ জানুয়ারি বিএসএমএমইউতে এই কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *