ভিসা ছাড়া ভ্রমণ: যেসব পাসপোর্ট সবচেয়ে প্রভাবশালী

আন্তর্জাতিক

ভিসা ছাড়া ভ্রমণ—একবার ভাবুন তো, শুধু পাসপোর্ট থাকলেই যদি সারা পৃথিবী ঘুরে আসা যেত! আক্ষরিক অর্থে এমন সুবিধা না থাকলেও বেশ কিছু দেশের পাসপোর্ট দিয়ে বিনা ভিসায় বেশির ভাগ দেশ ভ্রমণ করা যায়। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের সেই সুবিধা থাকলেও তা অনেক সীমিত। কোন দেশের পাসপোর্টে ভিসা ছাড়া কতটি দেশ ভ্রমণ করা যায়, সেই বিবেচনায় প্রতিবছর প্রভাবশালী পাসপোর্টগুলোর তালিকা করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ‘আর হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ নামে পরিচিত এই সূচকে ২০২৩ সালে সবচেয়ে শীর্ষ অবস্থানে আছে জাপানের পাসপোর্ট। একক ও যৌথভাবে তালিকার প্রথম থেকে দশম স্থানের দেশগুলোর তথ্য এখানে দেওয়া হলো। বাংলাদেশ এর মধ্যে নেই, তবে এই পাসপোর্টে ৪১টি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করা যায়।

১. জাপান
জাপানি পাসপোর্টে সেখানকার নাগরিকেরা ভিসা ছাড়া যেতে পারেন পৃথিবীর ২২৭টি দেশের মধ্যে ১৯৩টিতে। অর্থাৎ মোট গন্তব্যের শতকরা ৮৫ শতাংশেই ভিসা ছাড়া যেতে পারেন তাঁরা। গত বছরও ১৯৩টি দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারার কারণে শীর্ষে ছিল জাপানের পাসপোর্ট। টানা পাঁচ বছর ধরে হেনলির এই তালিকায় শীর্ষে তারা। 

২. সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া
সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকেরা ভিসা ছাড়া যেতে পারেন ১৯২টি দেশে। গত বছরের হেনলি পাসপোর্ট ইন্ডেক্সেও তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল এশিয়ার এ দুই দেশের পাসপোর্ট। 

৩. জার্মানি ও স্পেন
জার্মানি ও স্পেনের নাগরিকেরা ভিসা ছাড়া যেতে পারেন ১৯০টি দেশে। ইউরোপের দেশ দুটির পাসপোর্টেরও গতবারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। 

৪. ফিনল্যান্ড, ইতালি ও লুক্সেমবার্গ
ইউরোপের তিন দেশ ফিনল্যান্ড, ইতালি ও লুক্সেমবার্গের নাগরিকেরা ভিসা ছাড়া যেতে পারেন ১৮৯টি দেশে। গত বছরও ভিসা ছাড়া সমানসংখ্যক দেশে ভ্রমণের সুযোগ ছিল এই দেশগুলোর নাগরিকদের। 

৫. অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন
এই দেশগুলোর নাগরিকেরা ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন ১৮৮টি দেশ। ইউরোপের এই চার দেশের পাসপোর্টের অবস্থানেও পরিবর্তন আসেনি গত বছরের তুলনায়। 

৬. ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড
যৌথভাবে ছয়ে অবস্থান করা দেশের সংখ্যা চারটি। ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের নাগরিকেরা নিজের দেশের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া যোতে পারেন ১৮৭টি দেশে। গত বছরের অবস্থানে পরিবর্তন হয়নি এই দেশগুলোরও। 

৭. বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র 
এই ছয় দেশের নাগরিকেরা ভিসা ছাড়া ঘুরে আসতে পারেন ১৮৬টি দেশ। এদের মধ্যে চেক রিপাবলিক ছাড়া অন্য দেশগুলোর অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি। চেক রিপাবলিকের নাগরিকেরা আগের বছরে ভিসা ছাড়া ১৮৫টি দেশে যেতে পারতেন। এবার নতুন একটি দেশ যোগ হওয়ায় ইনডেক্সে অবস্থানেরও উন্নতি হয়েছে। 

৮. অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, গ্রিস ও মাল্টা
এই চার দেশের নাগরিকেরা ভিসামুক্ত ভ্রমণ করতে পারেন ১৮৫টি দেশে। গত বছরও সমানসংখ্যক দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণসুবিধা নিয়ে একই অবস্থানে ছিল এই দেশগুলোর পাসপোর্ট। 

৯. হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড
হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের নাগরিকেরা ভিসামুক্ত ভ্রমণ করতে পারেন ১৮৪টি দেশে। এ দুটি দেশেরই অবশ্য গত বছরের তুলনায় ইনডেক্সে উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে হাঙ্গেরির পাসপোর্টের ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ ছিল ১৮৩ দেশে, আর পোল্যান্ডের নাগরিকদের ১৮২ দেশে। 

১০. লিথুনিয়া ও স্লোভাকিয়া
এই দুই দেশের নাগরিকেরা ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন ১৮৩টি দেশ। ইনডেক্সে অবস্থান যৌথভাবে দশম হলেও গত বছরের তুলনায় দুটি দেশের পাসপোর্টেই আগের বছরের তুলনায় ভিসা ছাড়া একটি দেশ বেশি ভ্রমণের সুযোগ মিলছে।

আর ভিসা ছাড়া সবচেয়ে কম দেশ ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া পাসপোর্ট হচ্ছে আফগানিস্তানের—মাত্র ২৭টি। তালিকার তলানির অপর পাসপোর্টগুলো যথাক্রমে ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান ও ইয়েমেনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *