বয়স বাড়লেও দাঁড়ায়নি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা

এক যুগ পার করল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। আজ ঘটা করে যুগপূর্তি উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রতিষ্ঠার এই ১২ বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা। তাঁরা বলেছেন, বয়স বাড়লেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভিত শক্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় সমস্যা শ্রেণিকক্ষ সংকট। প্রতিষ্ঠার এক যুগেও এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ববিতে বর্তমানে ২৪টি বিভাগ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বাধ্য হয়ে মাঠেই ক্লাস নিতে হচ্ছে অনেক বিভাগের শিক্ষকদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ভূমিকা সরকার বলেন, ‘আমাদের ছয়টি ব্যাচের জন্য ক্লাসরুম মাত্র একটি। আমরা এক থেকে দেড় বছরের সেশনজটে পড়েছি।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সাতটি ব্যাচের জন্য শ্রেণিকক্ষ আছে মাত্র একটি। ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ছয় দফা বেদির সামনে ক্লাস নিতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সংকট সত্ত্বেও সমাজকর্ম নামে নতুন 

একটি বিষয় চালু করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ এই বিভাগের জন্য শিক্ষক নেই একজনও। ভর্তির চয়েস ফরমেও বিষয়টি নেই। মূলত উপাচার্য সমাজকর্মের শিক্ষক হওয়ায় মেয়াদের শেষ বছরে বিষয়টি চালু হচ্ছে তাঁর ইচ্ছায়।

থমকে আছে অবকাঠামো উন্নয়ন ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মো. ছাদেকুল আরেফিন। যোগ দেওয়ার প্রথম বছরেই ৮৭৫ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তুত করেন তিনি। কিন্তু সেটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ছয় মাস আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পাঠালেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তাতে আপত্তি জানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপাচার্য মো. ছাদেকুল আরেফিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে একাডেমিকসহ বিভিন্ন ভবন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই চলমান।

ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসরুমের সংকট রয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়, শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও কক্ষের সংকট। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে সমন্বয় করে ববির শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হচ্ছে।

এত সংকটের পর নতুন বিষয় চালু কেন—জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ইউজিসির অনুমোদন নিয়েই সমাজকর্ম বিষয় চালু হচ্ছে। চলতি শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে এই বিভাগে।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা দীর্ঘ এক যুগে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসে বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের আহ্বায়ক সুজয় শুভ বলেন, এখানে ছাত্র, শিক্ষকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। দেয়ালে চে গুয়েভারার ছবি আঁকলে পর্যন্ত প্রশাসন হুমকি মনে করে মুছে ফেলছে। হলে ঢুকে হামলা করলেও বিচার হয় না।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো শিক্ষার্থী নিরাপত্তা চাইলে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে যেসব ছাত্র পরীক্ষা দিতে হলে আসতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ছাত্ররা নিজেরাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন।’

ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষিত গত বছরের ২০ মার্চ ইউজিসি এক চিঠিতে রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও উন্নয়ন) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নিরুৎসাহিত করে এসব পদে পূর্ণকালীন নিয়োগের তাগিদ দিয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য। বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও আপগ্রেডেশনের নামে অভ্যন্তরীণ স্টাফদের পদোন্নতি দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. মুহসিন উদ্দীন বলেন, রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের বিষয়ে মামলা চলছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে লোক না পাওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *