সামাজিক ভীতি মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে

মতামত

প্রশ্ন: আমি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। খুবই ইন্ট্রোভার্ট। সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। প্রধান সমস্যা হলো, নিজের ওপর ভরসা অনেক কম। নিজের কথার চেয়ে অন্যের কথা বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয়। খুব সহজেই অনেক বিভ্রান্ত হয়ে যাই। এ নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগি। সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারি না। ভার্সিটিতে আমার কোনো বন্ধু নেই। এটা খুব খারাপ লাগে। সবার সঙ্গে থাকতে চাই।

বন্ধু বাড়াতে চাই। কী করব?

উওর: উপসর্গগুলো শুনে মনে হচ্ছে, আপনি প্রাথমিকভাবে সামাজিক ভীতিতে ভুগছেন। যাকে সোশ্যাল অ্যাংজাইটি বলা হয়; অর্থাৎ কারও সঙ্গে কথা বলার সময় একধরনের সামাজিক ভীতি কাজ করে। এ কারণে আপনার মধ্যে একধরনের নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়। তাই আপনি যখন কোনো কিছু বলতে যান, তখন একধরনের শঙ্কা কাজ করে। এ সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। এ ছাড়া আপনার পারফরম্যান্স খারাপ হয়। এই সামাজিক শঙ্কা বেশি কাজ করলে আপনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। এতে আপনার উদ্বেগ কমবে। এ ছাড়া আপনি প্রতিদিন অনেক বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। 

প্রশ্ন: আমি প্রচণ্ডভাবে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। চার বছরের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। সে আর আমি একসঙ্গে পড়াশোনা করি। একই বিভাগ, একই ইয়ার। চার বছর ভালো-খারাপ সময় পার করেছি। গত মাসে সে নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছে। আমার সঙ্গে আর আগের মতো থাকবে না বলে জানিয়েছে। এ কথা বিশ্বাস করতে পারছি না। তাকে ছাড়া কীভাবে থাকব বুঝতে পারছি না।
আমি এখন কী করব?

উওর: প্রথমত, তাঁর নতুন একটা সম্পর্কের বিষয় আপনি মেনে নিন। মেনে নেওয়াটাই আপনার জন্য ভালো হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁর সঙ্গে আপাতত বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখবেন না। কারণ, প্রেমিক হিসেবে তাঁর প্রতি আপনার একধরনের আবেগ কাজ করবে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তিনি তো আপনাকে নিজের প্রেমিকা হিসেবে দেখবেন না। এতে আপনার মনের যন্ত্রণা বাড়বে। ফলে আপনাদের মধ্যে আরও জটিলতা তৈরি হবে। তাই আপাতত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে রাখতে পারেন। একপর্যায়ে যখন আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার জীবনে তাঁর কোনো গুরুত্ব নেই, দেখবেন তাঁর জন্য আপনার মধ্যে কোনো ধরনের আবেগ কাজ করছে না, তখন আপনারা দুজনে বন্ধুত্বের সম্পর্ক কাটাতে পারেন। যে সম্পর্ক মানুষের মন ছোট করে দেয়, অহেতুক কষ্ট দেয়, সেই সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন নেই। তাই আপাতত আপনি যোগাযোগবিহীন থাকতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *