রাজনীতিতে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা

মতামত

সমঝোতার পথে এগোতে হবে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনকালীন সরকারসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

এ সংকট নিরসনে দুই দলের মধ্যে আলোচনা বা সংলাপ জরুরি হলেও তার কোনো লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না; বরং নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দল দুটির মধ্যে দূরত্ব ততই বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতি রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, পরিস্থিতির উন্নয়ন না ঘটলে রাজপথ উত্তপ্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীসহ সারা দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মানুষের জানমালের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।

অতীতে বিভিন্ন বিষয় ও ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে দেশে সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি এবং মাসের পর মাস হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে সহিংসতায় বহু প্রাণহানি হয়েছে। সেসময় দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যে ব্যাপক ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদহানি হয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতে। সীমিত সম্পদের এই দেশে এবারও যদি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে বিপর্যস্ত অর্থনীতি এর ধকল কতটা মোকাবিলা করতে পারবে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানুষের জানমালসহ অর্থনীতির ক্ষতি এড়াতে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের গুরুত্ব রাজনৈতিক নেতাদের অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে। ভাবতে হবে, আমরা কি শুধু সাংবিধানিকভাবে বৈধ একটি সরকার চাই, নাকি দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।

ইতঃপূর্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপির সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি এমন নির্বাচনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছিল, যাতে নির্বাচনে মানুষ হত্যার প্রয়োজন না পড়ে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও সংলাপের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আহ্বান এবং সবার সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বস্তুত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণই শ্রেয়। সমস্যাগুলো যদি আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা যায় এবং সেখানে সমাধানের পথ খোঁজা হয়, তাহলে দেশের রাজনীতিতে সংঘাত ও নৈরাজ্য হ্রাস পাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার সম্পর্ক শত্রুতায় পর্যবসিত হওয়ায় গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা দেখছি, গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে বৈরী সম্পর্ক চলছে, তা দেশকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে দিচ্ছে। দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অবস্থার অবসান ঘটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সমঝোতার পথে হাঁটবে, এটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *