কানাডায় উচ্চশিক্ষা: যে ৬টি বিষয় বিদেশিদের জানা জরুরি

শিক্ষা

যাঁরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক, তাঁদের কাছে কানাডা বরাবরই জনপ্রিয় গন্তব্য। এর অন্যতম কারণ, কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি দুই রকমের বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। অন্য দেশের তুলনায় বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার সুযোগও দেওয়া হয় কানাডায়।

উচ্চশিক্ষায় কানাডা যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জানা থাকা ভালো। এতে সম্পূর্ণ নতুন একটি দেশে পড়তে গিয়ে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শিক্ষার্থীদের, তা কাটিয়ে ওঠা অনেকটা সহজ হয়। কানাডায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা রিদম সাচদেভা নামের এক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। টরন্টোভিত্তিক গণমাধ্যম নারসিটি ডট কমে এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা রিদম বলেন, কানাডায় পড়তে যাওয়ার আগে তিনি কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জানতেন না, যা জানা থাকলে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য দেশটিতে পড়াশোনা অনেকটা সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি। এমন কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জানা যাক—

অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া
বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে প্রথম সেমিস্টার শুরু হওয়ার আগেই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফ্রশ’ নামে একটি ইভেন্ট থাকে। এসব ইভেন্টে বিভিন্ন খেলাধুলা, র‍্যালি ও কার্নিভ্যালের আয়োজন করা হয়। রিদমের পরামর্শ, এসব আয়োজনে অংশগ্রহণ করা উচিত সবার। কারণ তিনি এমন অনুষ্ঠান থেকেই জীবনের সেরা বন্ধুকে খুঁজে পেয়েছিলেন। আর এমন ভালো বন্ধু পাওয়া সম্পূর্ণ নতুন একটি দেশে শিক্ষাজীবন শুরুর প্রথম দিনগুলোকে একটু কম ভীতিকর করবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রয়োজনীয় কিছু রান্না শেখা
অনেকেই ভাবেন, বিদেশে পড়তে গেলে রান্নাবান্না কোনো বিষয় না। তবে রিদমের পরামর্শ, রান্নাটা শিখে যাওয়াই উত্তম। রিদমের পরিবার থেকে যখন তাঁকে রান্না শিখতে বলা হয়, তিনি বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বেলা খাবারের সুব্যবস্থা আছে ভেবে স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু বিপত্তি বাধল যখন দেখলেন, সপ্তাহান্তে খাবারের দোকান বন্ধ রাখা হয়। আর অন্য দিনগুলোতেও সন্ধ্যা ৬টার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় খাবার দেওয়া। এরপর অনেকটা অনিচ্ছায় কষ্ট করে ভাত ও ডিম থেকে শুরু করে অন্য রান্না শিখেছেন রিদম। রিদম বলেন, ‘সব সময় আপনার বাবা-মায়ের কথা শুনুন এবং বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগেই কিছু রান্না শিখুন।’

এসআইএন নম্বর সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা রাখা 
একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই শুরুতে আপনাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি পরিশোধ করতে এটি সবার আগে প্রয়োজন। আর কানাডায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে অবশ্যই সোশ্যাল ইনস্যুরেন্স নম্বর-এসআইএন লাগবে। এই নম্বর ছাড়া আপনি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না দেশটিতে। এ ছাড়া অন্যান্য আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে এই নম্বর গুরুত্বপূর্ণ। রিদম জানান, তিনি অনলাইনে আবেদন করার এক সপ্তাহ পর পেয়েছিলেন এসআইএন। তাই তাঁর পরামর্শ, কানাডায় গিয়েই যত দ্রুত সম্ভব এসআইএন নম্বরের জন্য আবেদন করা।

ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন রিদম সাচদেভা। ছবি: টুইটারভালো বন্ধু তৈরি করা
বিদেশে পড়তে গিয়ে অবশ্যই কিছু ভালো বন্ধু থাকা উচিত বলে মনে করেন রিদম সাচদেভা। কারণ একটা নতুন দেশে পরিবার ও স্বজনদের ছাড়া থাকতে হয় সবাইকে। সেখানে অসুস্থতার মতো সংকটের সময় পাশে থাকার জন্য প্রয়োজন ভালো বন্ধুর। রিদম জানান, তিনি কানাডা যাওয়ার পর বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন বন্ধুরা তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া এবং দেখভাল করেন। এ ছাড়া রিদমের পরিবারের সদস্যদের তাঁর খবর জানানো ও সেরে ওঠার পর বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন বন্ধুরা। তাই বিদেশে ভালো বন্ধু তৈরি করার পরামর্শ তাঁর। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন
কানাডায় ঘুরে দেখার মতো দারুণ সব জায়গা রয়েছে। কিন্তু গণপরিবহনে আপনি খুব ভালোভাবে এসব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন না। তাই রিদমের পরামর্শ, নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আপনি ইচ্ছেমতো ঘুরে দেখতে পারবেন বিভিন্ন শহর। তা ছাড়া গণপরিবহনে সবাই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। রিদম মনে করেন, যত তাড়াতাড়ি জি-ওয়ান বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনি স্নাতক সম্পন্ন করার পরে বা তার আগেই নিজে থেকে গাড়ি চালাতে পারবেন। 

কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ
কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত চার মাসের গ্রীষ্মকালীন ছুটি দেওয়া হয়। রিদম এই ছুটিতে ভারতে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যেতেন। পরিবার ও পুরোনো স্কুল বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছেন তিন। এ ছাড়া কানাডার বিচ মেট্রো কমিউনিটি নিউজ নামে স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে কাজ করেন রিদম। অদ্ভুত বিষয় হলো, ভারতের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির ইংরেজি গণমাধ্যমে কাজ করার তুলনায় ওই স্থানীয় পত্রিকার কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হয় চাকরির সাক্ষাৎকারে। তাই রিদমের পরামর্শ, পড়াশোনার পাশাপাশি কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা পরবর্তী কর্মজীবনে প্রবেশে বেশি সহায়ক হবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *