মস্কো-ওয়াগনার গ্রুপের সম্পর্কে টানাপোড়েন

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এক বছরের বেশি সময় পর মস্কোর সঙ্গে রুশপন্থি বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। গ্রুপটির প্রধানের দাবি, নথিতে সইয়ের পরও প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ দিচ্ছে না মস্কো, এতে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের শহর বাখমুতে ঝুঁকিতে পড়েছে তাঁর বাহিনী। একই সঙ্গে দ্রুত অস্ত্র দেওয়া না হলে যুদ্ধের সামনের সারি ভেঙে পড়ার শঙ্কাও তাঁর। ওয়াগনার যোদ্ধারা ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করলেও রুশ সেনারা কেবল মুখ বাঁচানোর লড়াই করছে বলেও অভিযোগ ওয়াগনার প্রধানের।

গত শনি ও রোববার পৃথক ভিডিও এবং পোস্টে এসব দাবি করেন ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। গোলাবারুদ না দেওয়াকে ‘সাধারণ আমলাতন্ত্র বা বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

এদিকে গোলাবারুদের অভাবের অভিযোগ করার পর ওয়াগনার গ্রুপের প্রতিনিধিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে মস্কো। প্রিগোজিন টেলিগ্রামে জানান, গতকাল সকালে তাঁকে দপ্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।  

ইউক্রেনে কয়েক হাজার সেনা রয়েছে মস্কোপন্থি ওয়াগনার গ্রুপের। অনেকেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। যুদ্ধ শুরুর পর তাদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে পাঠায় রাশিয়া। এই বাহিনীর যোদ্ধারাই পরে মস্কোর হামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। টানা কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের শহর বাখমুত দখলে লড়াই করে যাচ্ছে তারা। কিন্তু এখন অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে ওয়াগনার এবং মস্কোর মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রোববারের পোস্টে প্রিগোজিন বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি নথিতে সই করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ গোলাবারুদই পাঠানো হয়নি। তাঁর দাবি, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার পোস্ট করা এক ভিডিওতে প্রিগোজিনকে বলতে দেখা যায়, রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধে হেরে গেলে তাদের বলির পাঁঠা বানানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে তাঁর যোদ্ধারা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রুশ কর্তৃপক্ষ তাঁদের বখাটে বলে চিহ্নিত করে এবং এ কারেণই গোলাবারুদ দিচ্ছে না। শুধু গোলাবারুদই নয়, অস্ত্র দিচ্ছে না, কারাবন্দিদের মুক্ত করে লোকবলের ঘাটতিও পূরণ করছে না। তাঁর সেনা ছাড়া রাশিয়ার ফ্রন্টলাইন ভেঙে পড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।

গত মাসে প্রিগোজিন অভিযোগ করেছিলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এবং চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ তাঁর সৈন্যদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন।

মার্কিনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার গতকাল জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী পূর্ব বাখমুতে ‘সীমিত যুদ্ধ প্রত্যাহার’ করছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু রুশ বাহিনীর ওপর আক্রমণে বড় ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রেখেছে সেনারা।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বাখমুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে শহর রক্ষায় তাঁদের চেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন। জেলেনস্কির অফিস গতকাল জানায়, বাখমুতে প্রতিরক্ষা অব্যাহত রয়েছে বলে সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ভ্যালেরি জালুঝনি এবং স্থলবাহিনীর কমান্ডার আলেক্সান্ডার সিরস্কি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু দক্ষিণ ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর মারিউপোল পরিদর্শন করেছেন। এরই মধ্যে শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে রুশ বাহিনী। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পরিদর্শনকালে বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ফের নির্মাণ প্রসঙ্গে সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন শোইগু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *