ঠাকুরগাঁও-২: দবিরুলে ফুরফুরে আওয়ামী লীগ

ভোটের ময়দান

আওয়ামী লীগের দুর্গ ঠাকুরগাঁও-২। ১৯৯৬ সাল থেকে এই আসন নিয়ে তেমন একটা ভাবতে হয়নি দলটিকে। এর অন্যতম কারণ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী দবিরুল ইসলাম। ১৯৯৬ সাল থেকে এই আসনের এমপি তিনি। এর আগেও দুবার এমপি হয়েছিলেন, তবে আওয়ামী লীগ থেকে নয়। দবিরুলের কারণেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে আওয়ামী লীগ। কোনো কারণে তিনি নির্বাচন না করতে পারলেও সমস্যা নেই। মাঠে তৎপর তাঁর বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন।

বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর উপজেলা এবং রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ও কাশিপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগ যতটা নির্ভার, ঠিক ততটাই শঙ্কা বিএনপিতে। নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে এখনো দ্বিধায় আছে দলটি। তাই বিএনপি এই আসনে এখনো বেশ অগোছালো। দুই যুগের বেশি সময় ধরে আসনটি তাদের হাতে নেই। এ কারণে ধীরে ধীরে ম্রিয়মাণ হচ্ছে কর্মসূচি। এর চেয়ে বরং জামায়াতে ইসলামীকেই বেশি সক্রিয় মনে হবে।

আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দবিরুল ইসলাম। তবে কোনো কারণে তিনি না চাইলে মনোনয়ন চাইতে পারেন তাঁর বড় ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সুজন। এ ছাড়া হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আলম টুলু এবং সহসভাপতি প্রবীর কুমার রায়।

বিএনপি থেকে ড্যাবের মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আলম, সাধারণ সম্পাদক ড. টি এম মাহবুবর রহমান ও সাবেক এমপি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী তুলা মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা-কর্মী। 

প্রধান দুই দলের বাইরে আলোচনায় আছেন জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুন নাহার বেগম।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক সময় থাকলেও আগে থেকে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন উঠান বৈঠক এবং কর্মিসভায় সময় দিচ্ছেন। তবে অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গোপনে কর্মসূচি চালাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের বাধা-বিপত্তির কারণে প্রকাশ্যে আসতে চাইলেও পারছেন না। অনেকে দ্বিধার মধ্যেও নিজেরা প্রার্থী হবেন বলে নানাভাবে জানান দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর অন্যতম বর্তমান এমপি দবিরুল ইসলাম। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে এমপি থাকার কারণে নেতা-কর্মীদের দাবি, তিনি এলাকার রাস্তাঘাট পাকাকরণ, সেতু নির্মাণ, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নসহ দলের নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত করতে অনেক কাজ করেছেন।

উত্তরবঙ্গে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন এমন দুজনের মধ্যে এমপি দবিরুল একজন। উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে তিনি ‘ভোটের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত। তবে দবিরুল অসুস্থ থাকায় গত নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাঁর বড় ছেলে সুজন। এ কারণে দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে সুজনের ব্যাপক সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই তাঁকে তাঁর বাবার জায়গায় এমপি হিসেবে দেখতে চান।

এ ব্যাপারে মাজহারুল ইসলাম সুজন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হওয়া আমার কাছে মুখ্য বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে পুনরায় সরকার গঠন করতে পারেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করাই আমার কাছে মুখ্য বিষয়।’

নির্বাচনী ভাবনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মোস্তাক আলম টুলু বলেন, ‘এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগে নতুন প্রার্থীর মুখ দেখতে চান। আমাকে মনোনয়ন দিলে শতভাগ বিজয়ী হব।’ প্রবীর কুমার রায় বলছেন, ‘এর আগেও দুবার মনোনয়ন চেয়েছি, এবারও চাইব। অতীতের কার্যকলাপ বিবেচনা করে নেত্রী মনোনয়ন দেবেন, এমনটা আশা করি।’

ড্যাবের মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ‘চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে এলাকার মানুষ এবং দলের নেতা-কর্মীদের সেবা করার সুযোগ হয়েছে। নির্বাচনে দল অংশ নিলে এবং আমাকে মনোনয়ন দিলে অংশ নেব। আশা করি আওয়ামী শোষণ থেকে বাঁচতে এলাকার মানুষ আমাকে নির্বাচিত করবেন।’

গত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতের মাওলানা আব্দুল হাকিম। এবারও আছেন মাঠে। আসনটিতে কোনো কার্যক্রম নেই জাতীয় পার্টির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *