১৪ ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি

অর্থনীতি

ব্যাংক খাতে তারল্যসংকটের পাশাপাশি মূলধন ঘাটতিও বিরাজ করছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ১৪টি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ব্যাংক খাতে গত জুন প্রান্তিকে সার্বিক মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা; যা পরবর্তী তিন মাসে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। হিসাব করে দেখা গেছে, তিন মাসের ব্যবধানে মূলধন ঘাটতি বেড়েছে ৩ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে মূলধন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের (রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট) ১০ শতাংশ বা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ মূলধন সংরক্ষণে বাধ্য থাকবে। মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ দিতে পারে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৪ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের ৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের ২ হাজার ১২২ কোটি টাকা। সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের রেকর্ড ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। অপর দিকে বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৭১ কোটি টাকা, সিটিজেন ব্যাংকের ৯৫ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ২ হাজার ২৪ কোটি টাকা এবং পদ্মা ব্যাংকের ঘাটতি ৬০৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঘাটতি ৪৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *