শ্রম ইস্যুতে নয়, ন্যায্য মূল্য দিতে ক্রেতাদের চাপ দিন

অর্থনীতি

শ্রম ইস্যুতে নয়, বরং তৈরি পোশাকের ন্যায্যমূল্য দিতে ক্রেতাদের চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে পোশাক রপ্তানিতে। অথচ সেই পোশাক উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় বাংলাদেশ কোনো ধরনের শুল্ক আদায় করে না। বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা। এতে দেশটির কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। তার পরও শ্রম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশকে চাপ না দিয়ে শ্রমিকদের স্বার্থে পোশাকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ক্রেতাদের ওপর চাপ দেওয়া উচিত।  

গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাসান এসব কথা বলেন। বিজিএমইএ ক্যারিয়ার সামিট উপলক্ষে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ফারুক হাসান। সংগঠনের অন্য নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ দেশে শ্রমিক স্বার্থ কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে না।
পোশাক খাতে ঘোষিত ন্যূনতম নতুন মজুরি জীবন ধারণের জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। মজুরি ইস্যুতে সেপ্টেম্বর শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আন্দোলন করে এই শ্রমিক সংগঠনগুলো। পরে শ্রমিকদের আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। কারখানা ভাঙচুর ও সম্পদ বিনষ্ট করে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। 

গত ১৬ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার রক্ষায় প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরেন্ডাম ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, শ্রমিক অধিকারের পক্ষের কর্মী কিংবা শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যে বা যারা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করবে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলা হয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য, ভিসা নিষেধাজ্ঞাসহ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যত ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, তা প্রয়োগ করা হবে বলেও জানানো হয়।  
এর ঠিক চার দিন পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, এর প্রভাব বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয় চিঠিতে। 

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পোশাক খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং অর্জনের কথা তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি। উন্নত প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, করপোরেট ব্যবস্থাপনা ও টেকসই  সামাজিক ও পরিবেশ সুরক্ষা– প্রতিটি ক্ষেত্রে সেরা অনুশীলনগুলোর চর্চা করছেন উদ্যোক্তারা। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) পক্ষ থেকে দেওয়া বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ২০৬টি লিড সনদের কারখানার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, লিডের সব ক্যাটেগরিতেই বাংলাদেশের আধিপত্য রয়েছে। 

ক্যারিয়ার সামিট প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পোশাক খাতে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উৎসাহিত করতে দুই দিনের ক্যারিয়ার সামিট অ্যান্ড ফেস্টের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী শনি এবং রোববার বিজিএমইএ ভবনে অনুষ্ঠেয় এ সামিটে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট এবং নেতৃস্থানীয় কোম্পানির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। পোশাক শিল্প সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এটি এ ধরনের প্রথম আয়োজন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *