যিশুখ্রিষ্টের জন্মশহর বেথলেহেমে এ কেমন ‘ক্রিসমাস ইভ’! 

আন্তর্জাতিক

বড়দিনের আগের দিন সন্ধ্যাকেই বলা হয় ক্রিসমাস ইভ। প্রতিবছর বিশেষ এই মুহূর্ত উদ্‌যাপন করেন খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা। বিশেষ করে, যিশুখ্রিষ্টের জন্মস্থান বেথলেহেমে এই উদ্‌যাপন সারা বিশ্বের নজর কাড়ে। তবে এবার হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে বেথলেহেমে ক্রিসমাস ইভ উদ্‌যাপন স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় আনন্দের বদলে নগরীজুড়ে এক ভুতুড়ে নীরবতা দেখা গেছে। 

এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছরই ক্রিসমাস ইভে বেথলেহেম নগরীর ম্যাঞ্চার স্কয়ারকে ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে সাজানো হয়। নানা রঙের আলোয় ছেয়ে যায় চারদিক। বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা জড়ো হন সেখানে। ঐতিহ্যবাহী সংগীত আর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তরুণেরা। কিন্তু এবার এসবের কিছুই দেখা যায়নি। বদলে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে খালি চত্বরটিতে টহল দিতে দেখা গেছে। 

এমন পরিস্থিতির মধ্যে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে জেরুজালেমে বাস করা ভিয়েতনামের সন্ন্যাসী জন ভিন বলেছেন, ‘এই বছর ক্রিসমাস ট্রি আর আলো ছাড়া শুধু অন্ধকার।’ 

জন ভিন জানান, ক্রিসমাস উপলক্ষে তিনি প্রতিবছরই বেথলেহেমে আসেন। কিন্তু এবার যেখানে যিশুখ্রিষ্টের জন্মের সময়টিকে প্রতীকী পুতুলের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হয়, সেখানে কাফনে মোড়ানো কিছু ফিলিস্তিনি শিশুর প্রতীকী পুতুল দেখে তাঁর মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিসমাস ইভ বাতিল করা বেথলেহেম শহরের জন্য একটি গুরুতর অর্থনৈতিক আঘাত। এই শহরের ৭০ শতাংশ আয় পর্যটকদের কাছ থেকেই আসে। বলা যায়, এসব পর্যটকের প্রায় সবাই বড়দিনের মৌসুমে শহরটিতে প্রবেশ করেন। 

এবার পর্যটক না থাকায় প্রধান প্রধান এয়ারলাইনসের অনেক ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেথলেহেমের ৭০টির বেশি হোটেল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে পর্যটননির্ভর হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। ক্রিসমাস সামনে রেখে এবার উপহারের দোকানগুলোতেও ছিল না কোনো ভিড়। 

বেথলেহেমের আফতেম রেস্তোরাঁর মালিকদের একজন আলা সালামেহ বলেন, ‘যখন গাজায় কিছু মানুষের যাওয়ার মতো ঘরও থাকে না, তখন আমরা ক্রিসমাস ট্রি সাজানো এবং স্বাভাবিক উদ্‌যাপনকে ন্যায্যতা দিতে পারি না।’ 

সালামেহ জানান, বড়দিনের আগের দিনটি সাধারণত বছরের সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন। বসার জন্য অনেকে একটি চেয়ারও খুঁজে পান না। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে সবাই। আর এবার এখানে কিছুই নেই।

তবে ‘গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য বেথলেহেমের ক্রিসমাস ঘণ্টা বাজছে’—এমন একটি ব্যানারের নিচে কয়েক কিশোর ঐতিহ্যবাহী সান্তাস বিক্রি করছিল। যদিও এগুলো কাউকেই কিনতে দেখা যায়নি। ঐতিহ্যবাহী সংগীত শোভাযাত্রার পরিবর্তে কিছু তরুণ স্কাউটকে পতাকা হাতে দূরে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় ছাত্রদের একটি দলও বিশাল একটি ফিলিস্তিনি পতাকা মাঝখানে ধরে রেখে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *