ইসরায়েলে ২৩০ বিমান ও ২০ জাহাজভর্তি অস্ত্র পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র 

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে বর্বর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। বর্বর এই আগ্রাসনের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ।

তবে এরপরও ইসরায়েলকে ২৩০টি কার্গো বিমান এবং ২০টি জাহাজবোঝাই অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে এসব অস্ত্র দিয়েছে দেশটি। আজ মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু আজানসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর গাজায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২৩০টি কার্গো প্লেন এবং ২০টি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামবোঝাই জাহাজ ইসরায়েলে পাঠিয়েছে বলে সোমবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে।

ইসরায়েলকে পাঠানো বিপুল এই মার্কিন সামরিক সহায়তার মধ্যে আর্টিলারি শেল, সাঁজোয়া যান এবং সৈন্যদের জন্য মৌলিক যুদ্ধ সরঞ্জাম রয়েছে বলে ইয়েডিয়ট আহরনোথ সংবাদপত্র জানিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গাজা উপত্যকায় বর্তমান যুদ্ধের ব্যয় ৬৫ বিলিয়ন শেকেল বা ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে অনুমান করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদপত্রটি বলেছে, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের গুদামগুলোতে থাকা বেশির ভাগ গোলাবারুদ ব্যবহার করে ফেলে।

সংবাদপত্রটি আরও বলেছে, ‘কিন্তু লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি সম্ভাব্য বড় আকারের যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ইসরায়েল তার গুদামগুলো পুনরায় পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।’ 

ইসরায়েলি সামরিক পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৮৯ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২১ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ হাজারের বেশি নারী ও শিশু।

আহত হয়েছে আরও প্রায় ৫৫ হাজার ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলের এই হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার কোনো অবকাঠামো। তারা মসজিদ, গির্জা, স্কুল, হাসপাতাল, শরণার্থীশিবির, বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর—সব জায়গায় হামলা চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *