ফিরে দেখা-২০২৩: আফ্রিকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের কঠিন বছর

আন্তর্জাতিক

২০২৩ সালে আফ্রিকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি৷ কঙ্গোতে বেসামরিক জনতার সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর পর দেশটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে তারা৷ এটাই একমাত্র আফ্রিকার দেশ নয়, আরও দেশ ছাড়তে হয়েছে৷

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা ২০২৩ সালে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে এবং যেসব দেশে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে, সেই সব দেশে স্থিতিশীলতা বয়ে আনতে বেশ বেগ পেয়েছে৷ বিশেষ করে আফ্রিকায় তারা তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি৷

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গো (ডিআরসি), সাউথ সুদান, মালি ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের (সিএআর) মতো দেশগুলোতে জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে শান্তিরক্ষীরা৷

কিছু বিশ্লেষকের মতে, কঠোর নীতিমালার আওতায় কাজ করা জাতিসংঘের মিশনগুলো এসব দেশের পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে অভিভূত অবস্থার মধ্যে পড়েছে৷  

‘‘এক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার উদাহরণ মালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি৷ সেখানের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। কারণ প্রতিদিনই সহিংসতা বাড়ছে।’’ ডয়চে ভেলেকে বলেন, জাতিকায় সেন্টার ফর হিউম্যান সিকিউরিটি অ্যান্ড পিস বিল্ডিংয়ের পরিচালক আদিব সানি৷ ‘‘অবস্থাদৃষ্টে অনেকটাই মনে হচ্ছে যে জাতিসংঘের মিশন অসহায় অবস্থায় পড়েছে,’’ যোগ করেন তিনি৷ 

সানির মতো বিশ্লেষকদের কাছে আফ্রিকার কিছু অংশে জাতিসংঘ মিশনগুলোর পারফর্মেন্স হতাশাজনক৷ ‘‘তারা এসব দেশে সহিংসতা নিরসনে ব্যর্থ হয়েছে৷ অথচ মূলত ওটা সামলাতেই তাদের সেই সব দেশে পাঠানো হয়েছিল।’’ বলেন সানি৷

ম্যান্ডেট মানতে বাধ্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা

কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট মানতে বাধ্য জাতিসংঘ মিশনগুলো৷ যেমন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বলপ্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না৷ তারা আত্মরক্ষা বা তাদের ওপর আরোপিত ম্যান্ডেট রক্ষা ছাড়া প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ করতে পারবে না৷ কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শান্তিরক্ষীদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ার কারণ হচ্ছে তাদের দেওয়া ‘দুর্বল’ ম্যান্ডেট৷  

‘‘আমি বলব না যে আফ্রিকায় জাতিসংঘের সব মিশন ব্যর্থ হচ্ছে৷ বরং তাদের ম্যান্ডেটের ধরনের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না।’’ ডয়চে ভেলেকে বলেন সংঘাত নিরসনে বিশেষজ্ঞ ফিদেল আমাকিয়ে ওউসু৷ 

মালিতে এ বছর দেশটির সাধারণ মানুষ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। জুন মাসে দেশটির জান্তা সরকার জাতিসংঘ মিশন প্রত্যাহার করে নিতে বলে৷ 

অথচ এক দশক আগে মালির উত্তরাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইসলামপন্থিদের বিদ্রোহ দমনে শান্তিরক্ষীদের মোতায়েন করা হয়েছিল৷ কিন্তু দেশটির সামরিক সরকার উল্টো শান্তিরক্ষীরা সেখানকার অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে৷  

ফলে অক্টোবরে জাতিসংঘ ঘোষণা দেয় যে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ওয়েস্ট আফ্রিকার দেশটি থেকে শান্তিরক্ষা মিশন সরিয়ে নেওয়া হবে৷

গত মাসে দেশটি থেকে ফিরে এসেছেন শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত জার্মান সৈনিকেরা৷

মালির সামরিক শাসকেরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের বদলে রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী হিসেবে পরিচিত ভাগনার গ্রুপকে দিয়ে জিহাদি হুমকি মোকাবিলায় উৎসাহ দেখাচ্ছেন৷

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ম্যান্ডেটের কারণে যে সীমাবদ্ধতার মধ্যে শান্তিরক্ষীদের কাজ করতে হয়, ভাগনারের মতো প্রাইভেট মিলিটারি বাহিনীর সেই সীমাবদ্ধতা নেই৷  

তবে মোতায়েনকৃত দেশগুলোর আস্থা অর্জনে শান্তিরক্ষীরা খুব বেশি কিছু করে না বলেও অভিযোগ রয়েছে৷ তাদের কেউ কেউ যৌন হয়রানির এবং নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন৷  

চলতি বছর এ ধরনের অভিযোগের কারণে তানজানিয়ার ৬০ শান্তিরক্ষীকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে জাতিসংঘ৷

শান্তিরক্ষা মিশনকে আরো কার্যকর করে তুলতে চাইলে জাতিসংঘের সংস্কার প্রয়োজন বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *