যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, আওয়ামী লীগও তাই চায়: সালমান এফ রহমান

বাংলাদেশ

ঢাকা-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘আমি কয়েকদিন আগে আমেরিকার রাজধানীতে গিয়েছিলাম। তখন আমেরিকার মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তখন তাঁরা তিনটি বিষয় বলেছেন। প্রথম বিষয় বলেন, বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া উচিত। তখন আমি বলেছি, আপনারা যেটা চান সেটা আমাদেরও চাওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চান।’

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে আজ বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নির্বাচনী পথসভার আয়োজন করে। সেখানে এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান।

সালমান এফ রহমান আরও বলেন, ‘তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) দ্বিতীয় কথা ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়া। তখন আমি বললাম যে, শান্তিপূর্ণর গ্যারান্টি আমি দিতে পারব না। কারণ সব নির্বাচনে সব সময় কিছু না কিছু মারামারি ঘটনা ঘটে থাকে। তবে কেউ যদি অশান্তি করার চেষ্টা করে, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।’

যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় কথার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা বলেছে নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। তখন আমি বললাম, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে কি তোমরা বলতে চাও বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে? তখন তারা বলল যে, ‘‘না আমরা কখনোই একথা বলি নাই, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা চাই নির্বাচনে একটি অনুকূল পরিবেশ করে দিতে, যাতে বাংলাদেশের জনগণ ভোটে অংশগ্রহন করতে পারে।’

সালমান এফ রহমান আরও বলেন, ‘বিএনপি ও জামাত বলেছিল যে নির্বাচন হবে না, কিন্তু এখন নির্বাচন চলে এসেছে। তাই ভুয়া কথা বলে বিএনপি জনসমর্থন হারিয়েছে।’

গ্যাস লাইনের বিষয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম কেরানীগঞ্জ থেকে নবাবগঞ্জ ও দোহারে গ্যাস লাইন আসবে। কিন্তু পরে চিন্তা করলাম যে কেরানীগঞ্জ হয়ে গ্যাস আসতে আসতে নবাবগঞ্জ ও দোহারে গ্যাসের চাপ কমে যাবে। সেজন্য আমি সরাসরি নবাবগঞ্জে গ্যাস লাইনের প্রকল্প পাস করালাম, পরে সেখান থেকে গ্যাস দোহারে আসবে। আর তখন গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় নবাবগঞ্জ ও দোহারবাসী সুবিধা বেশি পাবে।’

সালমান এফ রহমান আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচনের সময় যত কথা দিয়েছি তার মধ্যে বেশিরভাগ কাজ হয়ে গেছে এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে। তাই কাজগুলো শেষ করতে হলে আমাকে ও শেখ হাসিনাকে আবার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।’

তিনি আরও বলেন, নবাবগঞ্জ ও দোহার হবে অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে হাইটেক পার্ক হবে অর্থনৈতিক জোন হবে। এ জন্য আমি তাদেরকে শর্ত দিয়ে বলেছি যে বা যারা এখানে অর্থনৈতিক জোন তৈরি করবেন, তাঁরা যাতে দোহার ও নবাবগঞ্জের লোকদের কাজ দেন।’

দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রাশেদ চোকদার এতে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা ইসলাম বিথী, আলী আহসান খোকন শিকদার, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আরমান হোসেন অপু প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *