ফিরে দেখা-বছরজুড়ে ব্যবসায় মন্দা, মান বাঁচিয়েছে ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’

বিনোদন

হলিউডের ইতিহাসে এতটা খারাপ সময় খুব কমই এসেছে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে কেবল জেগে উঠতে শুরু করেছিল ইন্ডাস্ট্রি। তাতে আরেকটি ধাক্কা দেয় লেখক ও অভিনয়শিল্পীদের দু-দুটো ধর্মঘট। লেখকদের ১৪৮ দিনের ও অভিনয়শিল্পীদের ১১৮ দিনের কর্মবিরতিতে একপ্রকার থমকে গিয়েছিল হলিউড। বন্ধ ছিল শুটিং, সিনেমা মুক্তিসহ স্টুডিওগুলোর যাবতীয় কার্যক্রম।

এই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও বেশ কিছু সিনেমা ব্যবসা চাঙা রেখেছিল। ২১ জুলাই একই দিনে মুক্তি পাওয়া ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছে। দুটি সিনেমাই বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা তুলে এনেছে। এ ছাড়া টেলর সুইফটের ইরাস ট্যুর কনসার্ট নিয়ে তৈরি ডকুমেন্টারি ফিল্ম, ‘কিলারস অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’, ‘দ্য সুপার মারিও ব্রস. মুভি’, ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ৩’, ‘ফাস্ট এক্স’, ‘স্পাইডার-ম্যান: অ্যাক্রস দ্য স্পাইডার-ভার্স’, ‘দ্য লিটল মারমেইড’ হলিউডের ভরসা হয়ে উঠেছিল। প্রশংসিত হয়েছে ‘প্রিসিলা’, ‘ফেরারি’, ‘নেপোলিয়ন’, ‘মায়েস্ত্রো’, ‘ওয়াঙ্কা’, ‘পাস্ট লাইভস’, ‘পুওর থিংস’, ‘অল অব আস স্ট্রেঞ্জারস’, ‘ফলেন লিভস’, ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’ সিনেমাগুলো।

তবে এ বছর রাজত্ব হারিয়েছে হলিউডের সুপারহিরো সিনেমাগুলো। এ দশকের শুরু থেকে এ ধরনের সিনেমা বক্স অফিসে রাজত্ব করলেও কয়েক বছর ধরে এসব গল্পের বাজার অনেকটা নিম্নমুখী। ২০২৩ সালে সুপারহিরোরা বক্স অফিসে একেবারেই সুবিধা করে উঠতে পারেনি। ‘দ্য মার্ভেলস’, ‘অ্যান্ট-ম্যান অ্যান্ড দ্য ওয়াসপ: কোয়ান্টাম্যানিয়া’, ‘শাজাম’, ‘ফিউরি অব দ্য গডস’ কিংবা ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ সবই মুখ থুবড়ে পড়েছে। আগে কোনো সুপারহিরো সিনেমা মুক্তি পেলেই কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলো বক্স অফিস থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার তুলে নিত। ডিসি, মার্ভেল কিংবা ডিজনি—হলিউডের এসব বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ভরসা ছিল সুপারহিরোরা। এসব গল্পে তারা সর্বোচ্চ বাজেটও বরাদ্দ রাখে। কিন্তু এ বছর সুপারহিরোদের নিয়ে ব্যবসা করা তো দূরের কথা, মানসম্মান বাঁচানোটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

সিনেমার ব্যবসায় খরা থাকলেও হলিউডের লেখক ও অভিনয়শিল্পীদের জন্য বছরটা ছিল সুখের। পারিশ্রমিক বাড়ানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সীমিত করাসহ বেশ কিছু দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা। বছর শেষে তাঁরা দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন। পারিশ্রমিকসহ অন্যান্য বিষয়ে হলিউডের স্টুডিওগুলো তাদের দাবিতে সম্মত হয়েছে। এ অর্জনকে সামনে রেখে আগামী বছর হলিউড নতুনভাবে জেগে উঠবে—এ প্রত্যাশা হলিউড ব্যবসা বিশ্লেষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *