ফিরে দেখা/হিট সিনেমার সংখ্যা বেশি

বিনোদন

কয়েক বছর ধরে বলিউডের ব্যবসা কমতে কমতে প্রায় তলানিতে ঠেকেছিল। বিষয়ের পুনরাবৃত্তি, নেপোটিজম বিতর্ক, বয়কটের ধাক্কা, দক্ষিণি সিনেমার জোয়ার, প্রোপাগান্ডা ফিল্মের আধিক্য—সব মিলিয়ে হিন্দি সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন দর্শক। বলিউডের তিন খান (শাহরুখ, আমির, সালমান), যাঁরা কয়েক দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রির হাল ধরে রেখেছিলেন, তাঁরাও হালে পানি পাচ্ছিলেন না। এই টালমাটাল পরিস্থিতি থেকে ২০২৩ সালে বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলিউড।

হিন্দি সিনেমার এই পুনরুত্থানে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন শাহরুখ খান। ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’ দিয়ে বছরজুড়ে বক্স অফিস চাঙ্গা রেখেছিলেন শাহরুখ। সালমান খানও ‘টাইগার-৩’ দিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের বক্স অফিস খরা কাটাতে পেরেছেন। গত ১১ আগস্ট মুক্তি পাওয়া ‘গাদার-২’ নতুন জীবন দিয়েছে সানি দেওলকে। ‘অ্যানিমেল’-এ অভিনয় করে তাঁর ভাই ববি দেওলও নতুনভাবে আলোচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন পর পরিচালনায় ফিরে করণ জোহরও হিট দিতে পেরেছেন। স্পাই থ্রিলার ও অ্যাকশন সিনেমার আধিক্যের ভিড়ে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের গল্প ‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি’ উপভোগ করেছেন দর্শক। এ ছাড়া বিধু বিনোদ চোপড়ার স্বল্প বাজেটের সিনেমা ‘টুয়েলভথ ফেল’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে। মাত্র ২০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি আয় করেছে ৬৫ কোটি রুপির বেশি। আলোচিত হয়েছেন অভিনেতা বিক্রান্ত ম্যাসি। এ ছাড়া টানা ব্যর্থতার পর ‘ওএমজি-২’ দিয়ে কিছুটা সাফল্য পেয়েছেন অক্ষয় কুমার।

এ বছর ভারতীয় সিনেমায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, হিন্দি ও দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রির সেতুবন্ধন। অনেক বলিউড তারকা যেমন দক্ষিণে গিয়ে অভিনয় করেছেন, তেমনি দক্ষিণের অনেক পরিচালক ও অভিনেতা হাত মিলিয়েছেন বলিউডের সঙ্গে। ফলে একই সঙ্গে একাধিক ভাষায় সিনেমা মুক্তি বেড়েছে এ বছর। ২০২৩ সালের আলোচিত দক্ষিণি সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘লিও’, ‘সালার পার্ট ওয়ান’, ‘জেলার’, ‘পন্নিয়িন সেলভান-২’, ‘দাসারা’, ‘২০১৮’, ‘কুশি’, ‘মার্ক অ্যান্থনি’ ও ‘কাঁঠাল’।

ভারতীয় সিনেমার এই পুনরুত্থানের পেছনে হলিউডের ভূমিকাও কম ছিল না। বলিউড ব্যবসাবিশ্লেষকেরা বলছেন, এ বছর ধর্মঘটের কারণে হলিউডের সিনেমা কম মুক্তি পেয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে ভারতীয় সিনেমার দর্শক সংখ্যা।

তবে পুরো বছর যে শুধু ভারতীয় সিনেমার জয়গাথা লেখা হয়েছে, তা নয়। বিতর্কও হয়েছে। ধর্মীয় উগ্রবাদের কারণে বিতর্কিত হয়েছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ ও ‘আদিপুরুষ’। অধিক সহিংসতা ও রক্তপাত দেখানোয় লিও, জেলার, অ্যানিমেল ও সালারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *