বালু ব্যবসায়ীর দৌরাত্ম্যে ২৫ বিঘা জমি এখন জলাশয়

বাংলাদেশ

পাঁচ বছর আগেও ছিল আবাদি জমি। চাষ হতো বিভিন্ন ফসল। কিন্তু এখন আর বোঝার উপায় নেই। দেখে মনে হবে যেন উন্মুক্ত জলাশয়। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভাতারিয়া গ্রামে ২৫ বিঘা জমি থেকে বালু উত্তোলন করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় রেজাউল করিম লাভলু নামের এক ব্যক্তি পাঁচ বছর আগে ইটভাটায় মাটি বিক্রির জন্য প্রায় তিন বিঘা জমিতে পুকুর খনন করেন। পরে পুকুর থেকে ড্রেজার দিয়ে শুরু করেন মাটি ও বালু উত্তোলন। এর ফলে পাশের জমিগুলোতে ভাঙন শুরু হয়। জমির মালিকেরা প্রতিবাদ করলে মেলে নির্যাতন। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা লাভলুর কাছে জমি বিক্রি করে দেন। এভাবে ক্রমান্বয়ে পুকুরের পরিধি বাড়তে থাকে। এখন তা ২৫ বিঘা ছাড়িয়ে গেছে।

গঞ্জের আলী নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘মাঠে আমার সাড়ে তিন বিঘা জমি আছে। আইল ঘেঁষে বালু তোলার কারণে বারবার জমি ধসে যায়। পানি দিলে তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ ট্রাক বালু সরবরাহ করা হয়। আমরা কিছু বলার সাহস পাই না। এর আগে প্রতিবাদ করায় একজনকে লাভলু অনেক মারধর করেছে। কোনো বিচার হয়নি।’

তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন লাভলু। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার নিজের ৫০ বিঘা জমি আছে। এখানকার জমির আগের মালিকেরা অনেক দূরে থাকেন। তাই তাঁরা স্বেচ্ছায় আমার কাছে জমি বিক্রি করেছেন। এখানে কোনো আবাদি জমি ছিল না। আগে থেকেই বিল ছিল। গরুর খামার করার জন্য সামান্য বালু তুলে রাস্তার পাশের জায়গা উঁচু করেছি। সরকার আইন করার পর সব বন্ধ রেখেছি।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন জিহাদী জানান, বালু তোলার সংবাদ পেয়ে সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভাতারিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বালু উত্তোলনের কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ইউএনও বলেন, ‘শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি বা বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে কয়েকজন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আদালতে মামলা করেছিলেন। এ কার্যক্রম জোরদার করার জন্য উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *