বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যায় প্রতিবছরই রেকর্ড, তবে বেশির ভাগই অদক্ষ: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

বাংলাদেশ

প্রতিবছরই রেকর্ডসংখ্যক কর্মী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাচ্ছেন। কিন্তু এর অধিকাংশই অদক্ষ। দক্ষতার লাইনেই কর্মী পাঠাতে হবে। আর এটা রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা ছাড়া সরকার একা করতে পারবে না। 

আজ শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় প্রবাসী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এ কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। 

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কিন্তু অনেক মানুষ পাঠিয়েছি। গত বছরও রেকর্ড হয়েছিল। এ বছরও রেকর্ড হয়েছে। আমার বিশ্বাস সামনের বছরও রেকর্ড হবে। কারণ, সারা বিশ্বে কর্মী চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আমরা দক্ষতা উন্নয়ন ট্রেন্ডে ফেল করছি। আমরা যত কর্মী পাঠাচ্ছি, এর অর্ধেকের বেশি অদক্ষ কর্মী। এটা আমাদের পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের দক্ষতার লাইনেই কর্মী পাঠাতে হবে। আর এটা রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা ছাড়া সরকার একা করতে পারবে না।’

ইমরান আহমদ বলেন, ‘প্রবাসে যেসব অভিবাসী শ্রমিক রয়েছে, তাদের অংশগ্রহণের কারণে দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে সচল আছে। চলতি বছর বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়াবে। বছরে আমাদের দেশ থেকে ১১-১২ লাখ মানুষ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী রেমিট্যান্স বাড়েনি। এই রেমিট্যান্স আনার দায়িত্ব আমাদের নয়। রেমিট্যান্স আনার দায়িত্ব হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের। আমরা আমাদের কাজ করছি। এখন তারা তাদের কাজ করলে রেমিট্যান্স স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে যাবে।’ 

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের প্রবাসীদের সব সমস্যা সমাধানের জন্য দূতাবাসেই যেতে হয়। দূতাবাস ছাড়া তাদের আর কোনো জায়গা নেই। পাশাপাশি কর্মীরাও দূতাবাস থেকে সব ধরনের সেবা পাচ্ছে। কিছু কিছু অভিযোগ মাঝে মাঝে আসে। অভিযোগ থাকবেই। চাহিদা বৃদ্ধি পেলে অভিযোগ থাকবেই। অভিযোগের সমাধানও সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায়।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের লোকেরা তাদের পরিবারের জন্য দেশে টাকা পাঠায়। সেই সুযোগে সরকার রেমিট্যান্স পায়। তবে রেমিট্যান্স খুব বেশি না। রেমিট্যান্স প্রেরণে আমরা সপ্তম। আমাদের চেয়ে অনেক অল্পসংখ্যক লোকের দেশ ফিলিপাইন কিংবা মেক্সিকো অনেক রেমিট্যান্স পাঠায়, ভারত রেমিট্যান্সে সর্বোচ্চ। আমাদের রেমিট্যান্স অনেক কম। এর একটি বড় কারণ, আমাদের যেসব প্রবাসী যাচ্ছেন, তাঁদের বিরাটসংখ্যক দক্ষতা সম্পন্ন নয়।’ 

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রায়ই অভিযোগ করা হয় পাসপোর্ট দিতে দেরি করছে, এনআইডি তাঁরা পান না, বিদেশে অনেক প্রবাসী গিয়ে চাকরি নাই। মধ্যপ্রাচ্য থেকে চাকরির অভাবে ৩৫ শতাংশ ফিরে আসে। কিন্তু এগুলোতে সব দায়দায়িত্ব দেওয়া হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইস্যু করে না। পররাষ্ট্র শুধু তথ্য বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেয়। তারা (স্বরাষ্ট্র) যাচাই-বাছাই করে পাসপোর্ট তৈরি করে। যখন তারা (স্বরাষ্ট্র) তৈরি করে পররাষ্ট্র সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিতরণ করে। কিন্তু বাজারে কথা আছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট দিতে দেরি করে। 

আলোচনা সভা শেষে ২০২৩ সালের ৫৯ জন সিআইপিকে (এনআরবি) সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পাঁচজন প্রবাসীর সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। 

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানসচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের সভাপতি আবুল বাশার ও সিআইপি এনআরবি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহাতাবুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *