লোহিতসাগরে জাহাজে হামলাকারী হুতিদের তিনটি নৌকা ডুবিয়েছে মার্কিন নেভি

আন্তর্জাতিক

লোহিতসাগরে পণ্য পরিবহনকারী জাহাজে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। আজ রোববার আক্রমণকারী হুতিদের তিনটি নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেভির হেলিকপ্টার। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, নৌপথে পণ্য বহনকারী প্রতিষ্ঠান মেয়ার্স্কের জাহাজ হাংঝু থেকে স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় আপৎকালীন কল করা হয়। বলা হয়, চারটি ছোট নৌকা আক্রমণ করেছে জাহাজটিকে। ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ছোট নৌকাগুলো থেকে হাংঝু জাহাজে গুলি করা হয়।

সেন্ট্রাল কমান্ড আরও বলে, অস্ত্র নিয়ে চারটি নৌকা জাহাজের ২০ মিটারের মধ্যে চলে আসে। এরপর হুতি যোদ্ধারা জাহাজে চড়ার চেষ্টাও করে। এই অবস্থায় হাংঝুর আহ্বানে সাড়া দেয় মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার—ইউএসএস আইজেনহাওয়ার এবং ইউএসএস গ্রেভলি। হেলিকপ্টারগুলো থেকে হুতিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে হুতি যোদ্ধারা হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন হেলিকপ্টারে থাকা সদস্যরা এর জবাব হিসেবে গুলি চালিয়ে চারটি ছোট নৌকার মধ্যে তিনটি ডুবিয়ে দেয়। চতুর্থ নৌকাটি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গ্রুপ হুতি এর আগে বলেছিল, তারা জাতীয়তানির্বিশেষে ইসরায়েলে ভ্রমণকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে। গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ হিসেবে হুতিরা এই অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ যৌথভাবে লোহিতসাগরের দক্ষিণ প্রান্ত ও এডেন উপসাগরে টহলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে বহুজাতিক টহল কোনো কাজে আসবে না বলে দাবি করেছে হুতিরা। সংগঠনটির একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোট গঠন লোহিতসাগরে হুতিদের জাহাজ আক্রমণ করা থেকে থামাতে পারবে না।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বাহরাইন সফরে গিয়ে আন্তর্জাতিক নজরদারি জোটের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’ নামে বহুদেশীয় নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যোগ দেবে বাহরাইন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সেশেলস ও স্পেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *