ইনজেকশনে ফেন্টানাইলের পরিবর্তে পানি, যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে সংক্রমণে ১০ রোগীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন রাজ্যের একটি হাসপাতালে ইনজেকশনে ফেন্টানাইল ওষুধের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করায় সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে ১০ রোগী মারা গেছে। এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার। বলা হয়েছে, বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালটি তদন্তের আওতায় নিয়েছে পুলিশ।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এনবিসি ফাইভ প্রথম এ সম্পর্কে জানায়, মেডফোর্ডের আসান্তে মেডিকেল সেন্টারে একজন রোগীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আসান্তের ভেতরকার সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এনবিসি ফাইভ। সেখানে বলা হয়েছে, হাসপাতালটিতে সংক্রমণে ১০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

সূত্রগুলো দাবি করেছে, এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে একজন নার্সের কারণে। তিনি ইনজেকশনে ওষুধের বদলে কলের পানি দিয়েছিলেন। আর সেই পানি থেকেই সংক্রমিত হয়েছিল রোগীরা। অভিযোগ করা হয়, সেই নার্স হাসপাতালে ব্যথার ওষুধ, বিশেষত ফেন্টানাইল সরবরাহের অপব্যবহার গোপন করার চেষ্টা করছিলেন। নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের রোগীদের ইনজেকশনে ফেন্টানাইলের বদলে কলের পানি দেন সেই নার্স। এতেই সংক্রমিত হয়ে মারা যায় রোগীরা।

মেডফোর্ড পুলিশ এই ঘটনায় তাদের তদন্ত চলমান বলে নিশ্চিত করলেও বিশদ তথ্য জানায়নি। কারও বিরুদ্ধে এখনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তবে সূত্রগুলো বলেছে, অপরিষ্কার পানিতে সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। দুর্বল স্বাস্থ্যের ব্যক্তিদের জন্য এই সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে।

হাসপাতালটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এনবিসি ফাইভকে কোনো সাক্ষাৎকার দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তারা তদন্তে সহায়তা করছে বলে দাবি করেছে।

ডক্স অন কল অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ডা. রবিন মিলার বলেন, সেপসিস এবং নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ নাজুক স্বাস্থ্যের রোগীদের জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসাসংক্রান্ত অসদাচরণের এই ঘটনাকে ‘ড্রাগ ডাইভারসন’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন অনুসারে, ‘ডাইভারসন’ মানে একটি নিয়ন্ত্রিত পদার্থকে বৈধ থেকে অবৈধ পথে বিতরণ বা ব্যবহার করা।

মিলার বলেন, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ১০ শতাংশ পেশাজীবীই এই অসদাচরণের সঙ্গে যুক্ত আর ডাইভারসনে অপসারিত ওষুধগুলোর মধ্যে ফেন্টানাইল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *