নির্বাচনের আগে টেন্ডার অনুমোদনে তোড়জোড়

বাংলাদেশ

১৮৪ কোটিতে ভবন নির্মাণ

  • বিসিপিএসের জন্য ভবনটি নির্মাণ হবে।
  • বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দেড় মাসের মধ্যেই টেন্ডার অনুষ্ঠান, দরপত্র মূল্যায়ন ও সুপারিশ।
  • সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পাচ্ছে এইচএসএল-এমএসই (জেভি)। 

রাশেদ রাব্বি, ঢাকা

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১০

দরপত্রের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ তৈরি করে পাঠানো হয় গত ২৯ নভেম্বর। অর্থাৎ দেড় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে দরপত্র বাছাই, ই-টেন্ডার, দরপত্র মূল্যায়ন, সুপারিশসহ যাবতীয় সব কাজ। অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া এই দরপত্রটি ছিল একটি ভবন নির্মাণের। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এই ভবনটি নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৪ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ধরনের বড় অঙ্কের প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে মূল্যায়ন ও সুপারিশ পর্যন্ত যাবতীয় কাজ শেষ করতে তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায়। কিন্তু এই দরপত্রের ক্ষেত্রে দেড় মাসের মধ্যেই সবকিছু সম্পন্ন করার উদ্দেশ্য একটাই। তা হলো তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের আগেই মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া। এখন সেই তোড়জোড়ই চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, এটি ছিল ই-টেন্ডার। মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের প্রাক্কলিত মূল্যের প্রায় সমান দর প্রস্তাব দিয়েছে। অপরটি প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে বেশি দর প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকেই রিসপনসেভি বা যোগ্য বলে বিবেচনা করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। সেই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে ইতিমধ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, কাজটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গত সপ্তাহের মন্ত্রিসভায় এটি অ্যাজেন্ডাভুক্ত না হওয়ায় চলতি সপ্তাহে বিশেষ বিবেচনায় এটি অনুমোদন করতে জোর তদবির চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৯ নভেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য ক্রয় প্রস্তাবের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে মন্ত্রিসভা বিভাগে পাঠান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। ওই সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ওই প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ হবে। ১২ তলাবিশিষ্ট এই মাল্টিপারপাস ভবনে থাকছে ৩টি বেসমেন্টসহ ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজটি করবে এইচএসএল-এমএসই (জেভি)।

এই কাজের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থের সংস্থান রয়েছে ১৮৪ কোটি টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতা এইচএসএল-এমএসই (জেভি) ভ্যাট, ট্যাক্সসহ ১৮৩ কোটি ৪২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা দর প্রস্তাব করে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ কম। অপর দিকে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন যোগ্য দরদাতা এনডিআই-এসটি (জেভি) যে দর দিয়েছে, তা দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য থেকে ২ দশমিক ০১৯ শতাংশ বেশি। এ কারণে সর্বনিম্ন রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে এইচএসএল-এমএসই (জেভি)-কে কার্যাদেশ প্রদানের সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা নিয়মানুযায়ী বিষয়টি মন্ত্রসভায় উত্থাপনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছি। সেখানে কোথাও বিশেষ বিবেচনা বা স্পেশাল কথা লেখার সুযোগ নেই।’

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) অনুসারে শতকোটি টাকার বেশির মূল্যের ক্রয়প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন। গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সি বলেন, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে যেসব দরপত্র অনুমোদন নিতে হয়, তার আহ্বান থেকে শুরু করে নিষ্পত্তি পর্যন্ত কমপক্ষে তিন মাস সময় লেগে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *