যাঁরা আমার মেয়েকে আতঙ্কের ওপর রেখেছিলেন, তাঁদেরও নতুন বছর আনন্দের হোক’

বিনোদন

এবারও ইংরেজি নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে থার্টি ফার্স্ট নাইটে ঢাকা মহানগরীতে ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি না করতে নির্দেশনা দিয়েছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। কিন্তু বরাবরের মতো সেই নির্দেশনা কাজে আসেনি। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১১টার পর থেকেই ঢাকার আকাশে আলোর ঝলকানি শুরু হয়। রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজির বর্ণিল আলোর সঙ্গে মুহুর্মুহু কান ফাটানো শব্দে বিরক্ত হয়েছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁদের বিরক্তির কথা প্রকাশ করেছেন। বিরক্তি প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

ফেসবুকে ফারুকী জানিয়েছেন, তিনি উৎসবের বিপক্ষে নন। তবে তিনি উদ্‌যাপনের জন্য দিয়েছেন পরামর্শ। তিনি লিখেছেন, ‘উৎসব যেহেতু থাকবে, আবার এই শহরে ছোট শিশু-বয়স্ক মানুষ-রোগী-পশুপাখিদেরও থাকতে হবে, তাহলে একটা উপায় বের করা যায়? ওকে, আই হ্যাভ অ্যা সাজেশন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পুরা শহরটাকে যুদ্ধক্ষেত্র না বানায়ে শহরের তিনটা জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়? যেখানে উৎসব করার জন্য মানুষ জড়ো হবে। আমাদের এখানে তো আর সিডনি হারবার ব্রিজের মতো কোনো জায়গা নাই। আমাদের সব জায়গাতে তো আবাসিক। সেই জন্য জায়গার পাশাপাশি সময়টাও বেঁধে দেওয়া দরকার! উচ্চশব্দ হয় এমন কোনো কিছু করলে এই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে করতে হবে। তাতে করে নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গাগুলোর আশপাশের ভবনের মানুষেরা জানবে কোন সময়টাতে এ রকম শব্দ হতে পারে এবং সেই অনুযায়ী একটা প্রস্তুতি রাখতে পারে। কালকে রাতে যেমন দুইটার পরেও চলছে এই বীভৎস তাণ্ডব!’

ফারুকী আরও লিখেছেন, ‘আমরা যখন কোনো ছাদে দাঁড়াই, আমরা কিন্তু সেখান থেকে একটা আস্ত ইট নিয়ে বাইরের দিকে ছুড়ে মারি না! কারণ আমরা চিন্তা করি নীচে দিয়ে হেঁটে যাওয়া কারও না কারও মাথায় এটা পড়তে পারে, একটা অ্যাকসিডেন্ট হতে পারে। এই যে আমরা এটা ভাবি, এটাই মানুষের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। আমার কোনো কাজে অন্যের ক্ষতি হতে পারে কি না, এইটা ভাবা মানুষের বেসিক জিনিস হওয়া উচিত। সবার নতুন বছর আনন্দের হোক, এমনকি যারা কালকে আমার মেয়েকে আতঙ্কের ওপর রাখছিলেন, তাঁদেরও!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *