এবার বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার সঙ্গে নেওয়া নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য 

আন্তর্জাতিক

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর আরও কঠোর হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এবার দেশটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিষয়টি গতকাল সোমবার থেকে কার্যকরও হয়েছে। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হংকং থেকে প্রকাশিত ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভালরি বলেছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা অযৌক্তিক কারণে তাঁদের সঙ্গে পরিবার নিয়ে আসেন যুক্তরাজ্যে। কিন্তু ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সেই অযৌক্তিক আচরণ বন্ধ করা হবে, যা গত সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। 

জেমস ক্লেভারলি বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্নাতকোত্তর গবেষণা পর্যায়ে ভর্তি হওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছাড়া বাকি সবার ওপর প্রযোজ্য হবে। তাঁর আশা, এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্যে অভিবাসীর সংখ্যা হাজার হাজার কমিয়ে দেবে। উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান এই নীতি প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন। 

এর আগে বৈধ ও অবৈধ পথে প্রবেশ করা বিপুল পরিমাণ অভিবাসী কমাতে ভিসানীতি কঠোর করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকার ঘোষিত সর্বশেষ নীতি অনুসারে, যেসব অভিবাসী এখন থেকে ব্রিটেনে যাবেন, তাঁদের অবশ্যই কোনো না কোনো নির্দিষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে। 

পাশাপাশি অভিবাসীদের জন্য সর্বনিম্ন আয়সীমাও বাড়ানো হয়েছে এক-তৃতীয়াংশ এবং এই পরিমাণ অর্থ আয় করতে হবে নির্দিষ্ট খাতের দক্ষ শ্রমিক হিসেবে। তবে দেশটির বণিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। কারণ, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত স্বাস্থ্য খাত ও বেসরকারি খাত এখনো ব্যাপকভাবে শ্রমিকহীনতায় ভুগছে। 

গত নভেম্বরে প্রকাশিত ব্রিটিশ সরকারের তথ্যানুসারে, ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে রেকর্ড ৭ লাখ ৪৫ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। এসব অভিবাসীর মধ্যে ভারত, নাইজেরিয়া ও চীন থেকে সবচেয়ে বেশি এসেছে। বর্তমান ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি বলেছেন, সরকারের এই উদ্যোগ বৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ৩ লাখে নামিয়ে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *