ছাত্র রাজনীতিকে সাধারণ ছাত্রদের মাঝেও আকর্ষণীয় করতে হবে

বাংলাদেশ

ছাত্র রাজনীতিকে সাধারণ ছাত্রদের মাঝেও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। ছাত্রলীগের সভায় ছাত্রলীগের পাশাপাশি বাকি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও থাকবে নাহলে এটা ‘মিনিং লেস’ হবে বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রলীগের ৭৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘ভোট উৎসবের জন্য’, ‘নৌকার জন্য’, ‘স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য’, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য’ শীর্ষক সমাবেশ ও শোভাযাত্রা উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন। 

সমাবেশ শেষে শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশের পর টিএসসি হয়ে শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন এরপরে কাকরাইল থেকে নাঈটিঙ্গেল মোড় হয়ে জিরো পয়েন্ট হয়ে গুলিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। 

এর আগে, সকাল ৬টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডিস্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপরে সকাল ৮টায় ঢাবির কার্জন হলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এছাড়া সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বক্তব্য প্রদানকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতির বাইরেও সাধারণ ছেলে মেয়েদের বুঝাতে হবে ভালো লোকদের হাতে এই দেশের নেতৃত্ব থাকলে দেশ ভালো থাকবে। আর নেতৃত্ব যদি খারাপ লোকদের থাকে, ভালো লোকেরা রাজনীতিতে না এলে রাজনীতি মূলহীন হবে। রাজনীতিতে মেধাবীদের আসতে হবে নাহলে রাজনীতি মেধাশুন্য হবে। চরিত্রবানদের রাজনীতিতে আসতে হবে নাহলে চরিত্রহীনদের হাতে রাজনীতির নেতৃত্ব চলে যাবে। 

তরুণদের নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করতে হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, তরুণদের রুটিন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে। দিনের কখন কি করতে হবে সেটা গুছিয়ে কাজ করতে হবে। 

ছাত্রলীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৭৬টি অভিনন্দন জানিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পড়াশোনা করার আহ্বান জানান তিনি। রাত পর্যন্ত আড্ডা কমিয়ে দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে চিরতরে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।

স্মার্ট মানেই শুধু ভাষণ দেয়া নয়। বক্তব্য প্রদানকালে গতানুগতিকভকবে ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে ধারাবাহিক সালভিত্তিক বর্ণনা করলে এটা এখন আর কেউ শোনো না। বক্তব্য প্রদানকালে বুঝতে হয় চোখ ও মনের ভাষা। এই বিষয়টা বুঝতে পারলে মন কথা শুনতে চাবে ও পছন্দ করবে। যেই কথা বলবে সেই নেতৃত্ব দেবে এবং কর্তৃত্ব করবে সেটাই হোক অঙ্গিকার। 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রলীগের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি ফাইনাল খেলা হবে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলায় খেলা হবে। খেলা হবে লুটপাটের বিপক্ষে, বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। এসময় তিনি দুর্নীতিবাজদের সাবধান করে দেন।  

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপির এক দফা, তাদের ৩২ দল, মানববন্ধন, পদযাত্রা এবং বর্তমানে তাদের অবরোধ সবই ভুয়া। তাদের অবরোধের কোনো কিছুই পাবলিক মানে না। আজ বিএনপি কোথায়? তারা কোথায় পালিয়েছে? পালিয়েছে কেন? তারা খেলার মাঠে ফাউল করে লাল কার্ড পায়। তারা এখন বোমা মারবে। তারেক টেমস নদীর ওপার থেকে বোমা মেরে দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে।

বিএনপি আটলান্টিকের ওপার থেকে নিষেধাজ্ঞা আসবে সেই অপেক্ষায় আছে। শেখ হাসিনা ভিসানীতির কোনো তোয়াক্কা করেনা। আটলান্টিকের ওপারে নিষেধাজ্ঞাকে ভয় পায় না শেখ হাসিনা। তিনি বাংলার জনগণকে ভালোবাসেন। কোনো বিদেশি শক্তিকে পরোয়া করেননা ৷

ছাত্রলীগের ৭৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মার্ট বাংলাদেশের পক্ষে ছাত্রসমাজ রায় দিয়েছে উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার তারুণ্যের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের ইশতেহার। বাংলাদেশে বর্তমানে সাত কোটির বেশি কর্মক্ষম জনশক্তি রয়েছে। শেখ হাসিনা তার ইশতেহারে আগামী ২০৩০ সালের আগে আরো দেড় কোটি কর্মসংস্থান তৈরির নিশ্চয়তা দিয়েছেন। বাংলাদেশের কয়েক লাখ তরুণ জনগণের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। 

তরুণদের স্বপ্ন শেখ হাসিনার কাছে নিরাপদ এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমিক দেশ হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আগামীতে আমাদের তরুণেরা হবে বিলিয়ন ডলারের উদ্যোক্তা। স্মার্ট বাংলাদেশের তরুণেরাই আগামীতে গুগল, মাইক্রোসফট, টেসলা কিংবা চ্যাটজিপিটির মতো প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মফস্বল থেকে বড় হওয়া তরুণই হয়তো ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে ঘুরে বেড়াবে। ভবিষ্যতে মহাকাশযানের গায়ে লেখা থাকবে ‘বিজয় উনিশশো একাত্তর’। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আরো আধুনিক ও সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ জঙ্গিদের ক্লাবের পরিবর্তে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হবে। বাংলাদেশের তরুণদের প্রস্তুতকৃত পণ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে। এজন্য তরুণদের নৌকার পক্ষে শপথ নেয়ার আহ্বান জানান। 

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, মাইনুদ্দীন হাসান চৌধুরী, মো: সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, অজয় কর খোকন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, মো:গোলাম রাব্বানী ও লেখক ভট্টাচার্য, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং বর্তমান সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ডু প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *